সর্বনাশের মুখে পাকিস্তান! তেহরানের মিসাইল টার্গেটে কি এবার ইসলামাবাদ?

সর্বনাশের মুখে পাকিস্তান! তেহরানের মিসাইল টার্গেটে কি এবার ইসলামাবাদ?

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে পাকিস্তানে আয়োজিত আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। এই ব্যর্থতা কেবল পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়ায়নি, বরং আয়োজক দেশ হিসেবে পাকিস্তানকে এক ভয়াবহ কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ইজরায়েল-হামাস ইস্যু থেকে শুরু করে আঞ্চলিক আধিপত্য নিয়ে চলমান এই দ্বন্দ্বে পাকিস্তানের নিরপেক্ষ অবস্থান এখন বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে।

দুই শক্তির যাঁতাকলে ইসলামাবাদ

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই আলোচনার মধ্যস্থতা করে বিশ্বমঞ্চে নিজের প্রভাব বাড়াতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি এখন উল্টো দিকে মোড় নিয়েছে। একদিকে অর্থনীতি সচল রাখতে পাকিস্তানের জন্য আমেরিকার সমর্থন এবং আইএমএফের (IMF) ঋণ অপরিহার্য। অন্যদিকে, ইরানের সাথে পাকিস্তানের প্রায় ৯০০ কিলোমিটারের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। ইরানের সাথে শত্রুতা পাকিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে কয়েক দশক পিছিয়ে দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান তার সেনাবাহিনী সৌদি আরবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় চরম ক্ষুব্ধ হয়েছে ইরান।

সামরিক ঘাঁটি ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে চাপে রাখতে আমেরিকা এখন পাকিস্তানের বালুচিস্তান সীমান্তের বিমানঘাঁটিগুলো ব্যবহারের দাবি জানাতে পারে। এখান থেকে ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো আমেরিকার জন্য সহজ হবে। তবে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যারা শত্রুপক্ষকে ঘাঁটি দেবে, তাদের তারা ছেড়ে কথা বলবে না। যদি পাকিস্তান আমেরিকাকে সামরিক সুবিধা দেয়, তবে তেহরানের মিসাইল ও ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু সরাসরি ইসলামাবাদ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি

পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও এখন অগ্নিগর্ভ। বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া জনগোষ্ঠী পাকিস্তানে বসবাস করে। সরকার যদি ইরানের বিপক্ষে গিয়ে আমেরিকার হাত ধরে, তবে দেশে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও গৃহযুদ্ধ শুরু হতে পারে। একই সাথে বালুচিস্তানে বিদ্রোহী তৎপরতা বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। ইরান সীমান্ত ‘হট বর্ডার’-এ পরিণত হলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে একসাথে অভ্যন্তরীণ ও সীমান্ত দুই ফ্রন্টে লড়াই করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের অগ্নিপরীক্ষা

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল অসীম মুনির এক কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন। একদিকে আমেরিকার চাপ বজায় রাখা এবং অন্যদিকে ইরানের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করা—এই দ্বিমুখী সংকট সামলাতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। সৌদি আরবের সাথে সাম্প্রতিক সামরিক চুক্তি পাকিস্তানকে সাময়িক সুরক্ষা দিলেও তা ইরানকে আরও উসকে দিচ্ছে।

একঝলকে

  • ইসলামাবাদে আয়োজিত আমেরিকা-ইরান শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে।
  • অসহযোগিতার অভিযোগে আলোচনা ছেড়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
  • আমেরিকার পক্ষ নিলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকিতে রয়েছে পাকিস্তান।
  • সৌদি আরবে পাক সেনা মোতায়েন করায় ক্ষুব্ধ তেহরান।
  • ভুল পদক্ষেপে পাকিস্তানে গৃহযুদ্ধ বা চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *