ইজরায়েলের ‘ক্লিন সুইপ’ অপারেশন: লেবানন সীমান্তে ধ্বংসলীলা, মাটির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে একের পর এক গ্রাম!

ইজরায়েলের ‘ক্লিন সুইপ’ অপারেশন: লেবানন সীমান্তে ধ্বংসলীলা, মাটির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে একের পর এক গ্রাম!

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তেজনার পারদ আরও চড়ল। আন্তর্জাতিক মহলে যুদ্ধবিরতির আবেদন সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবানন সীমান্তে আগ্রাসন তীব্রতর করেছে ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ)। ‘ক্লিন সুইপ’ অপারেশনের নামে লেবাননের সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোকে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত করছে ইজরায়েলি সেনারা। একের পর এক জনপদ এখন জনমানবহীন শ্মশান।

গ্রাম ধ্বংসে নতুন কৌশল ইজরায়েলের

ইজরায়েলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলোতে এক বিশেষ ধ্বংসাত্মক পদ্ধতি অবলম্বন করছে। সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সীমান্ত এলাকার গ্রামগুলোতে প্রথমে নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হচ্ছে এবং পরবর্তী সময়ে সেখানে শক্তিশালী বিস্ফোরক বসানো হচ্ছে। এরপর নিরাপদ দূরত্ব থেকে রিমোট কন্ট্রোল ব্যবহার করে আস্ত গ্রাম উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই ভয়াবহ চিত্রগুলো খোদ ইজরায়েলি বাহিনীই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছে।

‘ডেড জোন’ তৈরির পরিকল্পনা

ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের লক্ষ্য অত্যন্ত স্পষ্ট। দক্ষিণ লেবাননের লিটানি নদী পর্যন্ত একটি বিশাল এলাকাকে তারা ‘নিরাপদ অঞ্চল’ বা বাফার জোন হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। এই প্রক্রিয়ায় ইজরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ প্রতিটি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে তাইবেহ, নাকৌরা এবং ডের সেরিয়ানের মতো গ্রামগুলো এখন ধ্বংসের মুখে। উল্লেখ্য যে, এই একই কৌশল আগে গাজা ও রাফাহ অভিযানে প্রয়োগ করা হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক মহলে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ

ইজরায়েলের এই পদ্ধতিগত ধ্বংসলীলাকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষের আবাসন ও গ্রাম ধ্বংস করা স্পষ্টত ‘যুদ্ধাপরাধ’। সমালোচকদের দাবি, এটি কেবল হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই নয়, বরং একটি দেশের ভৌগোলিক ও সামাজিক কাঠামোকে চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়ার চেষ্টা।

সংঘাতের নেপথ্যে ও প্রভাব

ইজরায়েলের মূল লক্ষ্য হিজবুল্লাহর সুড়ঙ্গ পথ এবং সামরিক পরিকাঠামো ধ্বংস করা। তবে এই কৌশলের ফলে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। লিটানি নদী পর্যন্ত ইজরায়েলি কর্তৃত্ব স্থাপনের এই চেষ্টা ভবিষ্যতে লেবাননের সার্বভৌমত্বকে বড় ধরনের সংকটে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

একঝলকে

  • লেবানন সীমান্তে ইজরায়েলের ‘ক্লিন সুইপ’ অপারেশন চলছে।
  • রিমোট কন্ট্রোল বিস্ফোরক ব্যবহার করে সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলো উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
  • লিটানি নদী পর্যন্ত বিশাল এলাকাকে ‘ডেড জোন’ তৈরির পরিকল্পনা আইডিএফ-এর।
  • তাইবেহ ও নাকৌরাসহ একাধিক গ্রাম এখন ধ্বংসস্তূপ।
  • মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ধ্বংসলীলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *