৮১৬ আসনে বাড়বে লোকসভা! নারী সংরক্ষণে মোদী সরকারের মাস্টারস্ট্রোক

৮১৬ আসনে বাড়বে লোকসভা! নারী সংরক্ষণে মোদী সরকারের মাস্টারস্ট্রোক

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সম্প্রতি এই লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধনী বিলের প্রতিলিপি সাংসদদের হাতে দেওয়া হয়েছে। আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল এই বিলটি লোকসভায় পেশ করবেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে লোকসভা ও প্রতিটি রাজ্যের বিধানসভায় মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত করার বিষয়টি বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে।

লোকসভার আসন বৃদ্ধি ও নতুন সীমানা নির্ধারণ

বিলে শুধুমাত্র মহিলাদের সংরক্ষণ নয়, বরং লোকসভার মোট আসন সংখ্যা বাড়ানোরও প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমান জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক বাস্তবতার ভিত্তিতে এই পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে:

  • আসন সংখ্যা বৃদ্ধি: লোকসভার বর্তমান ৫৪৩টি আসন বাড়িয়ে ৮১৬টি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর জন্য ৩৫টি আসন বরাদ্দ করা হতে পারে।
  • সীমানা পুনর্নির্ধারণ (Delimitation): বর্তমানে ১৯৭১ সালের জনশুমারির ভিত্তিতে আসন বিন্যাস করা আছে। নতুন বিল কার্যকর হলে সর্বশেষ জনশুমারির তথ্য অনুযায়ী সংসদীয় এলাকার সীমানা নতুন করে নির্ধারণ করা হবে।
  • পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন: মহিলা সংরক্ষণের এই ব্যবস্থা ১৫ বছরের জন্য বলবৎ থাকবে। প্রতি নির্বাচনে লটারির মাধ্যমে বা রোটেশন পদ্ধতিতে সংরক্ষিত আসনগুলো পরিবর্তিত হতে পারে, যাতে সব এলাকার মহিলারা সুযোগ পান।

পরিসীমন কমিশন ও প্রশাসনিক কাঠামো

নির্বাচনী এলাকাগুলোর পুনর্গঠন এবং জনসংখ্যার ভারসাম্য বজায় রাখতে একটি শক্তিশালী ‘পরিসীমন কমিশন’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে এই বিলে।

  • কমিশনের গঠন: সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বা কর্মরত কোনো বিচারপতি এই কমিশনের নেতৃত্ব দেবেন। সদস্য হিসেবে থাকবেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যের নির্বাচন কমিশনাররা।
  • স্বচ্ছতা: কমিশন তাদের প্রস্তাবগুলো জনসমক্ষে আনবে এবং সাধারণ মানুষের আপত্তি বা পরামর্শ গ্রহণ করবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারি গেজেটে প্রকাশের পরই তা কার্যকর হবে।

রাজনৈতিক সমীকরণ ও বিল পাসের চ্যালেঞ্জ

সংবিধান সংশোধনী এই বিলটি পাসের জন্য লোকসভায় ৩৬২ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে এনডিএ জোটের হাতে ২৯৩টি ভোট রয়েছে। ফলে বিলটি পাস করাতে সরকারকে আরও অন্তত ৬৯টি ভোটের সংস্থান করতে হবে। তবে সরকারের ধারণা, মহিলাদের ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত এই স্পর্শকাতর ইস্যুতে বিরোধী দলগুলো সরাসরি বিরোধিতা করার বদলে ভোটদান থেকে বিরত থাকতে পারে, যা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সহায়তা করবে।

সংরক্ষিত আসনের শ্রেণিবিন্যাস

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে এসসি (SC) এবং এসটি (ST) তালিকাভুক্ত মহিলাদের জন্য আলাদাভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ১৩১তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে মোট আসন সংখ্যা ৮৫০ পর্যন্ত বাড়ানোর পথ প্রশস্ত করা হচ্ছে, যাতে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য না থাকে।

একঝলকে

  • লক্ষ্য: লোকসভা ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ।
  • আসন বৃদ্ধি: ৫৪৩ থেকে বেড়ে ৮১৬ বা ৮৫০ পর্যন্ত হতে পারে লোকসভার আসন।
  • ভিত্তি: সর্বশেষ জনশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে নতুন সীমানা নির্ধারণ।
  • মেয়াদ: প্রাথমিক পর্যায়ে মহিলা সংরক্ষণ ১৫ বছর কার্যকর থাকবে।
  • ভোটাভুটি: বিল পাসের জন্য লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *