বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যৌন মিলন আসলে ধর্ষণই, যুগান্তকারী রায় দিল্লি আদালতের

বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যৌন মিলন আসলে ধর্ষণই, যুগান্তকারী রায় দিল্লি আদালতের

দিল্লির একটি আদালত সম্প্রতি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, অভিযুক্তের বিয়ের প্রতিশ্রুতি ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এর পেছনে ছিল কেবল শারীরিক লালসা চরিতার্থ করার গোপন উদ্দেশ্য।

আদালতের রায় ও আইনি পর্যবেক্ষণ

অতিরিক্ত দায়রা বিচারক কপিল কুমার অভিযুক্ত মোহিত রাজপালের বিরুদ্ধে মামলার শুনানি করেন। বিচারক তাঁর রায়ে স্পষ্টভাবে জানান যে, অভিযুক্তের বিয়ের প্রতিশ্রুতিটি শুরু থেকেই প্রতারণামূলক ছিল। আইনের দৃষ্টিতে কোনো নারীকে বিয়ের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে প্রাপ্ত শারীরিক সম্মতি বৈধ বলে গণ্য হয় না। আদালতের মতে, অভিযুক্তের মনে শুরু থেকেই বিয়ের কোনো সদিচ্ছা ছিল না, বরং তিনি এই মিথ্যা প্রতিশ্রুতিকে নারীকে শারীরিক সম্পর্কে রাজি করানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।

ঘটনার পটভূমি ও অভিযোগের বিবরণ

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখেন। ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন যে, অভিযুক্ত তাঁকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বারবার যৌন নির্যাতন করেছেন। এই ঘটনায় ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) ৩৭৬(২) (ধর্ষণ), ৩৭৭ (অপ্রাকৃতিক অপরাধ), ৩১৩ (সম্মতি ছাড়া গর্ভপাত) এবং ৫০৬ (অপরাধমূলক হুমকি) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

আদালতের সিদ্ধান্ত ও বর্তমান অবস্থা

যদিও আদালত অভিযুক্তকে ৩৭৭, ৩১৩ এবং ৫০৬ ধারা অনুযায়ী আনা অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছে, তবে বিয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে বারবার ধর্ষণের অপরাধে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, ভুক্তভোগী নারী শুধুমাত্র বিয়ের প্রতিশ্রুতির ওপর বিশ্বাস করেই শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছিলেন, যা পরে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমানে আদালত সাজা ঘোষণার জন্য পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে।

একঝলকে

  • বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের দায়ে দিল্লিতে এক যুবক দোষী সাব্যস্ত।
  • আদালত জানিয়েছে, অভিযুক্তের উদ্দেশ্য ছিল কেবল শারীরিক লালসা মেটানো।
  • ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত অভিযুক্ত ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখেন।
  • বিয়ের প্রতিশ্রুতি মিথ্যা হওয়ায় ভুক্তভোগীর সম্মতিকে বৈধ বলে মানেনি আদালত।
  • সাজা ঘোষণার জন্য মামলাটি পরবর্তী শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *