মাঝসমুদ্রে কমান্ডো হানা! গুজরাটগামী জাহাজ কব্জা করল ইরান, হাড়হিম করা ভিডিও ভাইরাল!

মাঝসমুদ্রে কমান্ডো হানা! গুজরাটগামী জাহাজ কব্জা করল ইরান, হাড়হিম করা ভিডিও ভাইরাল!

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হোরমুজ প্রণালী থেকে ভারতগামী একটি বাণিজ্যিক জাহাজসহ দুটি জাহাজ জব্দ করেছে ইরান। নাকাশধারী ইরানি কমান্ডোরা দ্রুতগামী স্পিডবোটে করে এসে জাহাজ দুটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। জব্দ করা জাহাজগুলোর মধ্যে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘এপামিনোন্ডাস’ দুবাই থেকে গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরের দিকে আসছিল। অন্য জাহাজটি পানামার পতাকাবাহী ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

অভিযান ও কারিগরি ক্ষয়ক্ষতি

ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দ্বারা পরিচালিত এই অভিযানের একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে কমান্ডোদের মই বেয়ে জাহাজে উঠতে এবং ইঞ্জিন রুমের নিয়ন্ত্রণ নিতে দেখা যায়। অভিযানের সময় গোলাগুলি এবং গ্রেনেড ব্যবহারের ফলে ‘এপামিনোন্ডাস’ জাহাজের কন্ট্রোল রুম বা ব্রিজে কারিগরি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই আকস্মিক হামলায় জাহাজে থাকা কোনো ক্রু সদস্য হতাহত হননি।

কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব ও পাল্টাপাল্টি ব্যবস্থা

ইরানের দাবি, জাহাজগুলো প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই চলাচল করছিল এবং নেভিগেশন সিস্টেমে কারচুপি করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেছে। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা একে ‘টিট-ফর-ট্যাট’ বা যেমন কর্ম তেমন ফল হিসেবে দেখছেন। সম্প্রতি মার্কিন বাহিনী ইরানের ‘তুসকা’ নামক একটি জাহাজ জব্দ করার দাবি করেছিল; ধারণা করা হচ্ছে, তারই প্রতিশোধ নিতে ইরান এই পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

সমুদ্র বাণিজ্যে প্রভাব

এই ঘটনার ফলে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভারতের জন্য এটি সরাসরি দুশ্চিন্তার কারণ, কারণ আক্রান্ত জাহাজটির গন্তব্য ছিল গুজরাটের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর। হোরমুজ প্রণালীতে ইরানের এই কঠোর অবস্থান বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ এবং বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • হোরমুজ প্রণালী থেকে ভারতগামী ‘এপামিনোন্ডাস’ ও অন্য একটি বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ করেছে ইরান।
  • ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) কমান্ডোরা ঝটিকা অভিযানের মাধ্যমে জাহাজ দুটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।
  • অভিযানে জাহাজের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ক্ষতি হলেও কোনো ক্রু সদস্য আহত হননি।
  • সম্প্রতি মার্কিন বাহিনীর হাতে ইরানি জাহাজ জব্দের ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *