ন্যাটো মিত্রদের জন্য ট্রাম্পের ‘নটি অ্যান্ড নাইস’ তালিকা! ইরান ইস্যুতে পাশ কাটাতে চাওয়া দেশগুলোর কপালে কী আছে?

ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার আবহে ন্যাটো মিত্রদের প্রতি কঠোর অবস্থান নিচ্ছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন সদস্য দেশগুলোর কার্যক্রমের ভিত্তিতে একটি ‘নটি অ্যান্ড নাইস’ (দুষ্টু ও মিষ্টি) তালিকা তৈরি করেছে। মূলত ইরান ইস্যুতে যারা আমেরিকার পাশে দাঁড়ায়নি এবং প্রতিরক্ষা খাতে পর্যাপ্ত ব্যয় করছে না, তাদের চিহ্নিত করতেই এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তালিকাভুক্তির নেপথ্য কারণ
এই তালিকায় মূলত সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা অবদান এবং কৌশলগত সমর্থনের মূল্যায়ন করা হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যারা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালীন ওয়াশিংটনকে সমর্থন দেয়নি, তাদের এই তালিকায় নেতিবাচকভাবে দেখা হবে। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ স্পষ্ট করেছেন যে, ইসরায়েল, দক্ষিণ কোরিয়া এবং পোল্যান্ডের মতো দেশ যারা সক্রিয় সহযোগিতা দিচ্ছে, তারাই কেবল আমেরিকার বিশেষ সমর্থন পাবে।
সম্ভাব্য প্রভাব ও কূটনৈতিক উদ্বেগ
হোয়াইট হাউসের এই পদক্ষেপের ফলে আমেরিকা ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যারা সম্মিলিত প্রতিরক্ষায় নিজেদের ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হবে, তাদের পরিণাম ভোগ করতে হবে। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, ইরানের সাথে সংঘাতের এই সংকটময় মুহূর্তে মিত্রদের সাথে এমন বৈরী আচরণ ন্যাটোর ঐক্যকে দুর্বল করে দিতে পারে।
এক ঝলকে
- ইরান ইস্যুতে সমর্থনের ভিত্তিতে ন্যাটো দেশগুলোর জন্য ‘নটি অ্যান্ড নাইস’ তালিকা তৈরি করেছে হোয়াইট হাউস।
- প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় ও সামরিক অভিযানে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোই কেবল মার্কিন বিশেষ সুবিধা পাবে।
- ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালীন অসহযোগিতার বিষয়টি এই মূল্যায়নে বড় ভূমিকা রাখছে।
- এই উদ্যোগের ফলে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি ও কূটনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।