২০৫০ সালেও শীর্ষস্থানে ভারত! ১৬৮ কোটিতে পৌঁছাবে জনসংখ্যা, পাল্লা দিয়ে বাড়বে চ্যালেঞ্জ

জাতিসংঘের ‘ওয়ার্ল্ড পপুলেশন প্রসপেক্টস ২০২৪’-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, আগামী ২৫ বছরে বিশ্বের জনসংখ্যায় এক বিশাল পরিবর্তন আসতে চলেছে। ২০৫০ সাল নাগাদ বৈশ্বিক জনসংখ্যা প্রায় ১৪০ কোটি বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস থাকলেও এই প্রবৃদ্ধি সব অঞ্চলে সমান হবে না। একদিকে আফ্রিকার দেশগুলো যখন জনসংখ্যা বিস্ফোরণের মুখে দাঁড়িয়ে, অন্যদিকে চীন ও জাপানের মতো শক্তিশালী অর্থনীতিগুলো ভয়াবহ জনমিতিক পতনের আশঙ্কায় রয়েছে। এই আসাম বৃদ্ধি ভবিষ্যতে বিশ্ব শ্রমবাজার, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আফ্রিকার উত্থান ও এশীয় পরাশক্তির পতন
ভবিষ্যৎ জনসংখ্যা বৃদ্ধির মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে যাচ্ছে সাব-সাহারা আফ্রিকা। বিশেষ করে কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআরসি) ২০৫০ সালের মধ্যে জনসংখ্যা ৯৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে নতুন ১০ কোটি মানুষ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নাইজার, অ্যাঙ্গোলা এবং সোমালিয়ার মতো দেশগুলোতেও উচ্চ প্রজনন হারের কারণে জনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। বিপরীতে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনের জনসংখ্যা আগামী ২৫ বছরে প্রায় ১৫ কোটি হ্রাস পেতে পারে। একইভাবে জাপান এবং ইতালির মতো দেশগুলোও তাদের বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে, যা তাদের অভ্যন্তরীণ জিডিপি এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করবে।
ভারতের আধিপত্য ও বৈশ্বিক শ্রমবাজারের সংকট
২০২৩ সালে চীনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পর ভারত একবিংশ শতাব্দী জুড়ে জনতাত্ত্বিক শীর্ষস্থান ধরে রাখবে। ২০৫০ সাল নাগাদ ভারতের জনসংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৬৮ কোটিতে পৌঁছাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে দেশটিতে প্রজনন হার কমতে থাকায় ২০৬০ সালের পর থেকে জনসংখ্যা আবার হ্রাস পেতে শুরু করবে। এই বৈশ্বিক জনমিতিক পরিবর্তনের ফলে ধনী ও প্রবীণ প্রধান দেশগুলোতে তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দেবে। এর ফলে তরুণ জনগোষ্ঠী সমৃদ্ধ দেশগুলো থেকে উন্নত দেশগুলোতে অভিবাসনের হার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন মেরুকরণ ঘটাবে।
এক ঝলকে
- ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের জনসংখ্যায় নতুন করে প্রায় ১৪০ কোটি মানুষ যুক্ত হবে।
- আফ্রিকার দেশ কঙ্গোতে জনসংখ্যা প্রায় ৯৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
- ২০৫০ সাল নাগাদ চীন প্রায় ১৫ কোটি এবং জাপান ১৪ শতাংশ জনসংখ্যা হারাতে পারে।
- ভারত ১৬৮ কোটি জনসংখ্যা নিয়ে বিশ্বের শীর্ষতম জনবহুল দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান বজায় রাখবে।