টিসিএস-এ নারকীয় কাণ্ড! শাড়ি পরলেই ‘হেনস্তা’, নামাজ পড়তে ও মাংস খেতে বাধ্য করার অভিযোগ নাসিকে

মহারাষ্ট্রের নাসিকে এক বহুজাতিক সংস্থায় (TCS) কর্মরত মহিলা কর্মীদের ওপর যৌন নির্যাতন, জোরপূর্বক ধর্মান্তরণ এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তোলপাড় শুরু হয়েছে গোটা রাজ্যে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে ঘটনার তদন্তভার গ্রহণ করেছে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT)।
তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য
তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘ সময় ধরে সংস্থার ভেতরে কট্টরপন্থী মতাদর্শ প্রচার করছিল। ২০২২ সাল থেকেই এই অপতৎপরতা শুরু হয়। প্রাক্তন কর্মীদের বয়ান অনুযায়ী, অভিযুক্তরা অফিসের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও সেখানে অবস্থান করত এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ চালাত। মূল অভিযুক্তদের লক্ষ্য ছিল মূলত সেইসব মহিলা কর্মী, যারা ভারতীয় ঐতিহ্য মেনে শাড়ি বা পোশাক পরতেন।
নির্যাতনের ধরন ও ধর্মীয় আঘাত
অভিযোগকারী মহিলারা পুলিশকে জানিয়েছেন যে, তাঁদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। এমনকি তাঁদের জোর করে মাংস খেতে এবং নামাজ পড়তে বাধ্য করার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া হিন্দু দেবদেবীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করে তাঁদের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করা হয়েছে। এসআইটি জানতে পেরেছে, অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে মহিলা কর্মীদের ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার নাম করে কোনো রিসর্টে আটকে রেখে যৌন নির্যাতনের ছক কষেছিল।
ধর্মান্তরণ চক্রের কাজ করার কৌশল
তদন্তে ‘নিদা খান’ নামে এক মহিলার নাম উঠে এসেছে, যাকে এই চক্রের অন্যতম মূল হোতা বলে মনে করা হচ্ছে। তার কাজের ধরন ছিল নিম্নরূপ:
- নতুন মহিলা কর্মীদের চিহ্নিত করে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করা।
- প্রথমে বন্ধুত্ব স্থাপন করে ধীরে ধীরে ধর্মীয় আলোচনায় টেনে আনা।
- কৌশলে তাঁদের নিজস্ব ধর্ম সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা দিয়ে ধর্মান্তরণে প্ররোচিত করা।বর্তমানে নিদা খান পলাতক এবং পুলিশি অভিযানের সময় সে নিজের মোবাইল ফোন ফেলে পালিয়ে যায়।
তদন্তের অগ্রগতি ও আইনি পদক্ষেপ
এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত অশ্বিনী চৈনানিকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত হেফাজতে নিয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে যে, কো ম্পা নির সার্ভার থেকে চৈনানিকে ৭৮টি ইমেল পাঠানো হয়েছিল, যা বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া অভিযুক্ত দানিশ শেখ, তৌসিফ আত্তার এবং রজা মেমনের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তদন্তকারী দল এখন এই ঘটনার নেপথ্যে কোনো বিদেশি অর্থায়ন (Foreign Funding) রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে অভিযুক্তদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং কল রেকর্ড যাচাই করছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাটিও অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের সাসপেন্ড করেছে।
একঝলকে
অন্যান্য তথ্য: বিদেশি আর্থিক যোগসূত্র ও ইমেল আদান-প্রদান খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
স্থান: নাসিক, মহারাষ্ট্র।
মূল অভিযোগ: যৌন হেনস্তা, জোরপূর্বক ধর্মান্তরণ ও ধর্মীয় অবমাননা।
অভিযুক্ত: দানিশ শেখ, নিদা খান, অশ্বিনী চৈনানি সহ মোট আট জন।
তদন্তকারী সংস্থা: স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT)।
বর্তমান অবস্থা: অশ্বিনী চৈনানি পুলিশি হেফাজতে, নিদা খান পলাতক।