নাসিক টিসিএস-এ নারকীয় কাণ্ড! যৌন হেনস্থা থেকে জোরপূর্বক ধর্মান্তর: নেপথ্যে এইচআর নিদা খানের ‘মাস্টার প্ল্যান’?

নাসিক টিসিএস-এ নারকীয় কাণ্ড! যৌন হেনস্থা থেকে জোরপূর্বক ধর্মান্তর: নেপথ্যে এইচআর নিদা খানের ‘মাস্টার প্ল্যান’?

ভারতের অন্যতম শীর্ষ আইটি প্রতিষ্ঠান টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসের (টিসিএস) নাসিক কার্যালয়ে এক ভয়াবহ চক্রের পর্দা উন্মোচিত হয়েছে। নারী কর্মীদের যৌন হেনস্থা এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন আটজন ভুক্তভোগী নারী। এই সম্পূর্ণ ঘটনার নেপথ্যে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে নাম উঠে এসেছে এইচআর ম্যানেজার নিদা খানের। কর্পোরেট জগতের আড়ালে চলা এই সুপরিকল্পিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বর্তমানে দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

যেভাবে চলত এই অপরাধের জাল

পুলিশি তদন্তে এই চক্রের কাজের ধরণ বা মোডাস অপারেন্ডি সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। অফিসের সময় শেষ হওয়ার পর অভিযুক্তরা কাজের বাহানা দিয়ে অফিসে থেকে যেতেন। এই সুযোগে তাঁরা নারী কর্মীদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে তাঁদের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করতেন। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে নিখুঁত পরিকল্পনা করে এবং কো ম্পা নির সম্পদ ব্যবহার করে তাঁরা এই কার্যক্রম চালাতেন বলে জানা গেছে।

টার্গেট ছিল হিন্দু তরুণীরা

একজন চুক্তিভিত্তিক কর্মীর দেওয়া বয়ান অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকেই এই অসাধু চক্র সক্রিয় ছিল। অভিযুক্তদের লক্ষ্য ছিল হিন্দু তরুণীদের প্রেমের জালে ফাঁসানো এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরিত করা। এই কাজের বিনিময়ে অভিযুক্তরা বড় অংকের টাকা পেতেন এবং সেই অর্থের একটি অংশ এইচআর ম্যানেজার নিদা খানকেও দেওয়া হতো বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি একজন হিন্দু পুরুষ কর্মীকেও জোরপূর্বক নামাজ পড়াতে বাধ্য করার মতো ঘটনা ঘটেছে।

ভুক্তভোগীদের বর্ণনা ও পুলিশের তৎপরতা

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে ঘটা এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন আটজন নারী কর্মী। তাঁদের বয়ান অনুযায়ী:

  • যৌন হয়রানি: সিনিয়ররা তাঁদের যৌন হেনস্থা করত এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করত।
  • অশালীন মন্তব্য: কর্মীদের শারীরিক গঠন এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ক্রমাগত কুৎসিত মন্তব্য করা হতো।
  • এইচআর-এর ভূমিকা: ভুক্তভোগীরা নিদা খানের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে তিনি সাহায্য না করে উল্টো চাকরি থেকে বরখাস্ত করার হুমকি দিতেন।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ একটি বিশেষ তদন্ত দল (SIT) গঠন করেছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রধান অভিযুক্ত নিদা খানসহ দানিশ শেখ, তৌসিফ আত্তার, রাজা মেমন, শাহরুখ কুরেশি, শফি শেখ এবং আসিফ আফতাব আনসারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক আরও এক নারী কর্মীর খোঁজে তল্লাশি চলছে।

একঝলকে

  • ঘটনাস্থল: টিসিএস কার্যালয়, নাসিক।
  • প্রধান অভিযোগ: জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ ও যৌন হেনস্থা।
  • প্রধান অভিযুক্ত: এইচআর ম্যানেজার নিদা খান।
  • গ্রেপ্তার: মোট ৭ জন গ্রেপ্তার, আরও একজন পলাতক।
  • তদন্তকারী সংস্থা: বিশেষ তদন্ত দল (SIT)।
  • সময়কাল: ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এই ঘটনাগুলো ঘটেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *