তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মেঘ? আমেরিকার বিরুদ্ধে রণহুঙ্কার দিয়ে সমুদ্রপথ বন্ধের হুমকি ইরানের

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মেঘ? আমেরিকার বিরুদ্ধে রণহুঙ্কার দিয়ে সমুদ্রপথ বন্ধের হুমকি ইরানের

পারস্য উপসাগরের নীল জলরাশিতে যুদ্ধের দামামা বাজছে। হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নৌ-অবরোধকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এখন চরমে। ওয়াশিংটন ইরানের বাণিজ্যিক পথ রুদ্ধ করার দাবি করলেও তেহরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, এই সংঘাত চললে রেড সি থেকে ওমান উপসাগর পর্যন্ত সমস্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য স্থবির করে দেওয়া হবে।

ওয়াশিংটনের কৌশল ও সামরিক শক্তি প্রয়োগ

ইরানের সঙ্গে আলোচনার পথ ব্যর্থ হওয়ায় দেশটির অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) সরাসরি এই অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

  • বিশাল সেনাবহর: প্রায় ১০ হাজার নৌ-সেনা, মেরিন এবং বিমানবাহিনীর সদস্যকে এই অভিযানে নামানো হয়েছে।
  • দ্রুত কার্যকর: মার্কিন প্রশাসনের দাবি, অবরোধ শুরুর মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্য স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
  • ট্যাঙ্কার আটক: চাবাহার বন্দর থেকে ছেড়ে আসা দুটি বিশাল তেলবাহী ট্যাঙ্কার মার্কিন রণতরি মাঝপথেই আটকে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

ইরানের পাল্টা অবস্থান ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন

ইরান এই অবরোধকে আন্তর্জাতিক রীতিনীতি এবং পূর্বঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। ইরানের সামরিক কমান্ড প্রধান আলী আবদুল্লাহি জানিয়েছেন, মার্কিন নৌবাহিনী ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাঙ্কারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা যেকোনো চরম পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

তথ্যের বৈপরীত্য ও সুপার ট্যাঙ্কারের রহস্য

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন দাবি করছে যে তারা ইরানের সব বাণিজ্য পথ বন্ধ করে দিয়েছে, ঠিক তখনই ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে মুম্বাইয়ে অবস্থিত ইরানি কনসুলেট জেনারেল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ তারা দাবি করেছে যে, প্রায় ২০ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেলবাহী একটি ‘সুপার ট্যাঙ্কার’ (VLCC) মার্কিন অবরোধ ভেঙে সফলভাবে ইরানি উপকূলে পৌঁছেছে। তবে মার্কিন শিবিরের দাবি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে পার হওয়া অন্য জাহাজগুলো ইরানের মালিকানাধীন নয়।

বিশ্ব অর্থনীতিতে বিপর্যয়ের শঙ্কা

ইরান তাদের বৈদেশিক বাণিজ্যের ৯০ শতাংশই সমুদ্রপথে সম্পন্ন করে, যার বড় একটি অংশ যায় খাগ দ্বীপ (Kharg Island) থেকে। বর্তমান উত্তেজনার ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে দুটি বড় ঝুঁকি দেখা দিয়েছে:

১. তেল সরবরাহে বিঘ্ন: ইরান যদি সত্যিই হরমুজ প্রণালী বা সংলগ্ন সাগরগুলোতে বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়, তবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হবে।

২. আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেইন: পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে পণ্যবাহী জাহাজের চলাচল বন্ধ হলে এশিয়া থেকে ইউরোপ পর্যন্ত পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

একসময়ের ছায়াযুদ্ধ এখন সরাসরি নৌ-অবরোধে রূপ নেওয়ায় গোটা বিশ্বের নজর এখন মধ্যপ্রাচ্যের এই সমুদ্রসীমার দিকে।

একঝলকে

  • ঘটনা: পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌ-অবরোধ এবং ইরানের পাল্টা হুমকি।
  • মার্কিন শক্তি: ১০ হাজার সেনা ও রণতরি মোতায়েন করে ৩৬ ঘণ্টায় বাণিজ্য অচল করার দাবি।
  • ইরানের হুঁশিয়ারি: সংঘাত না থামলে রেড সি ও ওমান উপসাগরে বিশ্ববাণিজ্য বন্ধের হুমকি।
  • বিপত্তি: ২০ লক্ষ ব্যারেল তেলবাহী জাহাজ নিয়ে দুপক্ষের পরস্পরবিরোধী তথ্য।
  • সম্ভাব্য প্রভাব: আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *