কাজ গেলে যাক, কিন্তু নাগরিকত্ব বাঁচাতে হবে! ভিটেমাটি আগলে ঘরে ফিরছেন হাজার হাজার শ্রমিক

কাজ গেলে যাক, কিন্তু নাগরিকত্ব বাঁচাতে হবে! ভিটেমাটি আগলে ঘরে ফিরছেন হাজার হাজার শ্রমিক

নাগরিকত্ব হারানোর আতঙ্কে ঘরে ফিরছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা

পেটের টানে ভিটেমাটি ছেড়ে ভিনরাজ্যে পাড়ি দেওয়া হাজার হাজার শ্রমিক এখন কর্মক্ষেত্র ছেড়ে বাংলার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। মুম্বইয়ের কারিগর থেকে দিল্লির গৃহকর্মী—সকলের মধ্যেই এখন একটাই ভয়, ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে নাগরিকত্ব হারিয়ে ‘বিদেশি’ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি। এই অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে তারা কাজ ও রোজগারের কথা ভুলে ভোট দানে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। অনেকে ট্রেনের নিশ্চিত টিকিট না পেয়ে অতিরিক্ত খরচ করে বেসরকারি বাসে বা কষ্টসাধ্য উপায়েও বাড়ি ফিরছেন।

ভীতি ও রাজনৈতিক প্রচারের প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্রমিকদের মনে এই তীব্র ভীতির মূলে রয়েছে এনআরসি (NRC) সংক্রান্ত লাগাতার রাজনৈতিক প্রচার। “ভোট না দিলে নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে”—এমন বার্তাই প্রান্তিক মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। এর পাশাপাশি, কিছু শিল্পক্ষেত্রে এলপিজি গ্যাসের ঘাটতি ও কাজের অভাব পরিস্থিতির ওপর তেলের মতো কাজ করেছে। কারখানায় পর্যাপ্ত কাজ না থাকায় শ্রমিকদের জন্য ঘরে ফেরা আরও সহজ হয়েছে, যেখানে তারা অলস সময় কাটানোর চেয়ে নিজেদের নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত রাখাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করা এই বিশাল জনগোষ্ঠীর কাছে আসন্ন নির্বাচন কেবল সরকার পরিবর্তনের মাধ্যম নয়, বরং এটি তাদের ‘ভূমিপুত্র’ হওয়ার দলিল। ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম বজায় রাখা তাদের কাছে অস্তিত্ব প্রমাণের লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার ও নিজেদের অধিকার হারানোর আশঙ্কায় উদ্বেলিত এই পরিযায়ী শ্রমিকরা এখন যে কোনো মূল্যে ব্যালট বাক্সে নিজেদের রায় নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

এক ঝলকে

  • গণ-প্রত্যাবর্তন: ভোটার তালিকায় নাম বজায় রাখতে দিল্লি ও মুম্বই থেকে বিপুল সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিক বাংলায় ফিরছেন।
  • ভীতির কারণ: এনআরসি বিরোধী বা সমর্থক রাজনৈতিক প্রচারের জেরে নাগরিকত্ব হারানোর গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
  • অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট: শিল্পক্ষেত্রে কাজের অভাব ও গ্যাসের ঘাটতি শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্র থেকে বেরিয়ে আসার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
  • মূল লক্ষ্য: ভোট প্রদানের মাধ্যমে নিজেদের স্থায়ী নাগরিক পরিচয় নিশ্চিত করা ও অস্তিত্বের সংকট মোকাবিলা করা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *