মরিচমন্থন! নয়ডার শ্রমিক-ক্ষোভেও এবার ‘মিরচি’-যোগ?

মরিচের ঝালে ব্যক্ত প্রেমের আর্তনাদ
প্রেম ও বিরহের গল্পে আবেগ প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে বরাবরই নাটকীয় কিছু উপাদানের ব্যবহার দেখা যায়। সঞ্জয় লীলা বনশালির চলচ্চিত্র ‘হম দিল দে চুকে সনম’-এ দেখা গেছে, প্রিয়জনের স্মৃতি বা মনের অগোছালো ক্ষোভ প্রকাশে মরিচ বা ঝাললঙ্কা এক অনন্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। সিনেমার পর্দায় যেমন প্রেমিকাদের মানভঞ্জনের উপায় হিসেবে ঝাললঙ্কা খাওয়ার অদ্ভুত প্রবণতা দেখা যায়, বাস্তবেও ঠিক তেমনি মনের গহীনের অব্যক্ত যন্ত্রণাকে লঙ্কার তীব্র ঝালের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলার এক বিচিত্র মানসিকতা কাজ করে। এটি কেবল ঝাল নয়, বরং হৃদয়ের জ্বালা মেটানোর একটি নীরব প্রচেষ্টাও বটে।
ইতিহাসের পাতায় লঙ্কার বহুমুখী ব্যবহার
খাদ্য হিসেবে লঙ্কার ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। মেক্সিকোতে প্রায় ৬ হাজার বছর আগে থেকে এর চাষ শুরু হয়েছিল। কেবল স্বাদের জন্যই নয়, প্রাণিকুলকে দূরে রাখতে কিংবা আত্মরক্ষার ক্ষেত্রেও লঙ্কার ব্যবহার ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত। আদিতে হাতি তাড়াতে উপজাতিরা লঙ্কার ব্যবহার করত, আবার বর্তমানে নারীরা আত্মরক্ষার প্রয়োজনে পেপার স্প্রে হিসেবে একে আপন সঙ্গী করে নিয়েছেন। অন্যদিকে, রাজনৈতিক অস্থিরতা বা বিক্ষোভ দমনে ‘তিখি মিরচি’ বা লঙ্কার গুঁড়োর ব্যবহার নতুন আতঙ্কের জন্ম দিচ্ছে, যা মশলা হিসেবে লঙ্কার অতি সাধারণ ইমেজকে এক ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেছে।
এক ঝলকে
- বনশালির সিনেমার আদলে প্রেম ও বিরহের চিত্রায়ণে লঙ্কা হয়ে উঠেছে মনের অভ্যন্তরীণ জ্বালা প্রকাশের প্রতীক।
- ঐতিহাসিকভাবে লঙ্কার উৎপত্তি মেক্সিকোর মধ্য ও পূর্ব ভাগে, যার প্রচলন রয়েছে প্রায় হাজার বছর ধরে।
- লঙ্কা কেবল খাবারের স্বাদ বাড়ায় না, এর তীব্রতা আত্মরক্ষা এবং কৌশলগত কাজেও কার্যকর অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- ভিটামিন সির সমৃদ্ধ উৎস হওয়া সত্ত্বেও এর অতিরিক্ত ঝাল নিয়ন্ত্রণে জলের চেয়ে দুধ অধিক কার্যকর বলে বিবেচিত।