বাংলার ভোটে মহিলাদের রেকর্ড ভিড়, কার পাল্লা ভারি তা নিয়ে শুরু চুলচেরা বিশ্লেষণ

পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার নির্বাচনে মহিলাদের অভাবনীয় উপস্থিতিতে সরগরম রাজনৈতিক মহল। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৯৩ শতাংশ মহিলা ভোটার এবার বুথমুখী হয়েছেন, যা পুরুষদের তুলনায় অন্তত ২ শতাংশ বেশি। লোকসভা নির্বাচনে নারী শক্তির বড় অংশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকলেও, এবারের প্রেক্ষাপট খানিকটা ভিন্ন। বিশেষ করে আরজি কর কাণ্ড ও পরবর্তী ‘রাতদখল’ কর্মসূচির পর মহিলাদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ শাসক শিবিরের জন্য স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে নাকি প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার ইঙ্গিত, তা নিয়ে চলছে গভীর বিশ্লেষণ।

লক্ষ্মীর ভান্ডার বনাম রাতদখলের প্রভাব

তৃণমূলের অন্দরে দুই ধরনের মত উঠে আসছে। একদল মনে করছেন, ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের সরাসরি সুবিধাভোগীরা দিদির প্রতি আস্থাশীল হয়েই রেকর্ড সংখ্যায় ভোট দিয়েছেন। অন্যদিকে, আরজি কর আবহে তৈরি হওয়া ক্ষোভ বা ‘রাতদখল’ আন্দোলনের মেজাজ ব্যালট বক্সে প্রতিফলিত হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তবে তৃণমূল নেতৃত্ব মনে করছে, রাজপথের আন্দোলন ছিল সুনির্দিষ্ট একটি ঘটনার প্রতিবাদ, যা সার্বিকভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তায় ধস নামাতে পারেনি।

মেরুকরণ ও সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক

নির্বাচনী বিশ্লেষণে হিন্দু ও মুসলিম মহিলাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ধরন নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে। মালদহ, মুর্শিদাবাদ বা উত্তর দিনাজপুরের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় জোড়া ‘এম’ (মহিলা ও মুসলিম) সমীকরণ কাজ করেছে বলে শাসকদলের বিশ্বাস। তবে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বিজেপির মেরুকরণ কৌশলের ফলে হিন্দু মহিলাদের ভোটের একটি অংশ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কাও করছেন দলের রক্ষণশীল নেতারা। যদিও শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির ওপর ভর করেই বৈতরণী পার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে জোড়াফুল শিবির।

এক ঝলকে

  • প্রথম দফায় মহিলা ভোটদানের হার রেকর্ড ৯৩ শতাংশ ছুঁয়েছে বলে তৃণমূলের দাবি।
  • ২০২৪-এর লোকসভার পর আরজি কর আবহে এটিই প্রথম বড় পরীক্ষা রাজ্যের শাসকদলের।
  • জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের সুবিধা না কি আরজি করের প্রতিবাদ— কোন দিকে নারী মন, তা নিয়ে চলছে অঙ্ক কষা।
  • নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান আসার আগেই তৃণমূলের অভ্যন্তরে শুরু হয়েছে ফলাফল নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *