তৃণমূল ছাড়তেই বিস্ফোরক আব্দুর রাজ্জাক, মুর্শিদাবাদে এবার বড় ধস?

মুর্শিদাবাদে বড় ধাক্কা: তৃণমূল ছাড়লেন ডোমকলের বিধায়ক রাজ্জাক মোল্লা
নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণার প্রাক্কালে মুর্শিদাবাদ জেলায় বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। ডোমকলের বিদায়ী বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা দলত্যাগের ঘোষণা দিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছেন। দল ছাড়ার পাশাপাশি তিনি বিস্ফোরক দাবি করেছেন যে, আসন্ন নির্বাচনে জলঙ্গি, ডোমকল এবং রানিনগর—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে তৃণমূলের পরাজয় এখন সময়ের অপেক্ষা। বিদায়ী বিধায়কের এই মন্তব্য জেলার শাসক শিবিরে ব্যাপক অস্বস্তির জন্ম দিয়েছে।
অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ক্ষোভই কি মূল কারণ?
রাজ্জাক মোল্লার দলত্যাগের পেছনে একাধিক কারণ সামনে এসেছে। তিনি প্রকাশ্যে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং পুরনো ও ত্যাগী কর্মীদের অবজ্ঞার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর মতে, দলের বর্তমান সাংগঠনিক পরিচালনায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং যোগ্যতার চেয়েও অন্য বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে প্রার্থী নির্বাচন করা হচ্ছে। তবে তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব এই দাবিকে নস্যাৎ করে দিয়ে জানিয়েছেন যে, টিকিট না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই তিনি এ ধরণের মন্তব্য করছেন। দলের মতে, মানুষের রায় উন্নয়নের পক্ষেই থাকবে, কোনও ব্যক্তি বা বিধায়কের দলত্যাগে ভোটব্যাংকে বড় প্রভাব পড়বে না।
রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের পূর্বাভাস
এই ঘটনা মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘু প্রধান এলাকাগুলোতে তৃণমূলের ভোটব্যাংককে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। রাজনীতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্জাক মোল্লার এই বিদায়ে জলঙ্গি ও রানিনগরের মতো আসনগুলোতে বিরোধী জোটের সুযোগ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে তিনি পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট না করলেও, তাঁর এই বিদ্রোহ আসন্ন নির্বাচনকে জেলায় আরও ত্রিমুখী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলল।
এক ঝলকে
- তৃণমূল ছেড়েছেন ডোমকলের বিদায়ী বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা; অভিযোগ তুলেছেন দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও অবহেলার বিরুদ্ধে।
- জলঙ্গি, ডোমকল ও রানিনগর কেন্দ্রে তৃণমূলের নিশ্চিত পরাজয়ের দাবি করেছেন রাজ্জাক মোল্লা, যা জেলার রাজনৈতিক সমীকরণ জটিল করেছে।
- জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, টিকিট না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই এই দলত্যাগ এবং এতে দলের সংগঠনের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।
- বিদায়ী বিধায়কের এই পদক্ষেপে জেলার সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে ফাটল ধরার ঝুঁকি বেড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।