মহিলা সংরক্ষণে কেন এত আপত্তি, ফাঁস হল আসল রহস্য!

মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা, ‘ছদ্মবেশী’ বিলের অভিযোগে সরব তৃণমূল
সংসদে পেশ হওয়া ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বা মহিলা সংরক্ষণ বিল ২০২৬-কে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতির আঙিনায় শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। বিলটির উদ্দেশ্যকে নীতিগতভাবে স্বাগত জানালেও, এর প্রয়োগের সময়সীমা ও শর্তাবলি নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের স্পষ্ট অভিযোগ, আসন্ন নির্বাচনের আগে মহিলাদের মন জয় করতেই বিজেপি এই ‘ছদ্মবেশী’ বিলের আশ্রয় নিয়েছে, যার প্রকৃত সুফল পাওয়া নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বিল নিয়ে তৃণমূলের আপত্তির জায়গা
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই বিলের বাস্তবায়নে ‘ডিলিমিটেশন’ (সীমানা পুনর্বিন্যাস) ও আদমশুমারির যে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে, তা আদতে একটি দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া। এর ফলে ২০২৯ সালের আগে মহিলারা কোনো সুফল পাবেন না বলেই দলের অভিমত। পাশাপাশি, ওবিসি (OBC) মহিলাদের জন্য পৃথক কোটার অনুপস্থিতি এবং প্রস্তাবিত ৮৫০টি আসনের নেপথ্যে হিন্দিভাষী বলয়ের আধিপত্য তৈরির রাজনৈতিক ছক নিয়েও সরব হয়েছেন তৃণমূল সাংসদরা। দলের নেতাদের কথায়, বিজেপির সদিচ্ছা থাকলে অবিলম্বে এই সংরক্ষণ কার্যকর করা সম্ভব ছিল, যা না করে একে কেবল রাজনৈতিক স্টান্টে পরিণত করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
তৃণমূলের দাবি, রাজনৈতিক ফায়দা লোটার পাশাপাশি সংসদের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার লক্ষ্যেই এই বিল আনা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মহিলা রিজার্ভেশনকে ইস্যু করে বিজেপি যেমন দেশজোড়া প্রচারের সুযোগ খুঁজছে, তেমনই তৃণমূলের এই তীব্র বিরোধিতা আসন্ন বিধানসভা ও লোকসভা ভোটে বড় ধরনের রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি করতে পারে। সংসদের ভেতরে ও বাইরে এই বিল নিয়ে বিরোধিতার সুর ২০২৬ সালের নির্বাচনের লড়াইকে আরও বেশি তিক্ত করে তুলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- তৃণমূল কংগ্রেসের মতে, ডিলিমিটেশন ও আদমশুমারির শর্ত থাকায় এই বিলের সুফল পেতে ২০২৯ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
- ওবিসি মহিলাদের জন্য পৃথক কোটার দাবি এবং ৮৫০টি আসন বৃদ্ধির নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল।
- বিজেপির বিলকে ‘নির্বাচনী স্টান্ট’ আখ্যা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল নিজেদের ৪০ শতাংশ মহিলা প্রার্থী দেওয়ার দৃষ্টান্ত সামনে এনেছে।