সংসদে দাঁড়িয়েই বিজেপিকে তুলোধোনা কল্যাণের, তোপের মুখে গেরুয়া শিবির!

সংসদে দাঁড়িয়েই বিজেপিকে তুলোধোনা কল্যাণের, তোপের মুখে গেরুয়া শিবির!

মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে উত্তপ্ত সংসদ, বিজেপির নারী প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে আলোচনার সময় কেন্দ্রীয় শাসকদল বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিজেপির দলীয় কাঠামোয় নারী প্রতিনিধিত্বের পরিসংখ্যান তুলে ধরে দাবি করেন, দলটি নিজেদের লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদদের মধ্যে মহিলাদের পর্যাপ্ত গুরুত্ব দিচ্ছে না। কল্যাণের পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, বিজেপির লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদদের মধ্যে নারীর হার যথাক্রমে ১২.৯১ শতাংশ ও ১৬.৯৮ শতাংশ। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষেত্রে এই হার লোকসভায় ৩৯.২৮ শতাংশ এবং রাজ্যসভায় ৪৬.১ শতাংশ। তিনি স্পষ্ট করেন যে, দলমত নির্বিশেষে নারীদের সম-অধিকার প্রতিষ্ঠায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সংরক্ষণ ও রাজনৈতিক কৌশল

মহিলা সংরক্ষণ বিল সমর্থন করলেও তৃণমূল সাংসদ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই বিলের সঙ্গে ডি-লিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়ার সংযুক্তিকরণে তাঁদের আপত্তি রয়েছে। কল্যাণের মতে, ডি-লিমিটেশন ছাড়াই অবিলম্বে ৫০ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করা হোক। পাশাপাশি, বিজেপির সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে অর্ধেক আসনে মহিলা প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্যই ভোটের মৌসুমে হুট করে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে, যা প্রকারান্তরে গণতন্ত্রের ওপর এক ধরনের আক্রমণ।

বিজেপি ও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এই সুর চড়ানোয় সংসদীয় বিতর্কে উত্তেজনা তৈরি হয়। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও দাবি করেন, দেশের প্রায় ৬৫.৭৮ শতাংশ নারী ভোটারের ওপর ভিত্তি করেই সরকার পরিচালিত হলেও বাস্তবে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে মহিলাদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হচ্ছে না। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পরপরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় নির্বাচনে ৫০ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করে একটি মাইলফলক স্থাপন করেছিলেন।

এক ঝলকে

  • বিজেপি সাংসদদের মধ্যে নারী প্রতিনিধিত্বের হার অত্যন্ত কম বলে দাবি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
  • তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি, ডি-লিমিটেশন ছাড়াই ৫০ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে।
  • তৃণমূল নেতা অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনী সুবিধা নিতে তড়িঘড়ি সংসদের অধিবেশন ডাকা হয়েছে।
  • পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সাল থেকেই স্থানীয় নির্বাচনে নারীদের জন্য ৫০ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কার্যকারিতা তুলে ধরেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *