বিপাকে পবন খেরা! সুপ্রিম কোর্টেও মিলল না স্বস্তি, গ্রেফতারের পথে কংগ্রেস নেতা?

বিপাকে পবন খেরা! সুপ্রিম কোর্টেও মিলল না স্বস্তি, গ্রেফতারের পথে কংগ্রেস নেতা?

আইনি জালে পবন খেরা: জামিন পেতে গৌহাটি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার পরিবারের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বড়সড় আইনি সংকটে পড়েছেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা পবন খেরা। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের মেয়াদ বাড়াতে অস্বীকার করেছে। বিচারপতি জে কে মহেশ্বরী এবং বিচারপতি অতুল এস চান্দুরকারের বেঞ্চ সাফ জানিয়েছে, এই মামলায় স্বস্তি পেতে হলে খেরাকে অবিলম্বে গৌহাটি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হবে। আদালতের এই সিদ্ধান্তে কংগ্রেস নেতার গ্রেফতারির ঝুঁকি আরও বাড়ল বলেই মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

নথিপত্র বিভ্রাট ও আদালতের কঠোর অবস্থান
শুনানি চলাকালীন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল খেরার জামিনের আবেদনের নথিপত্র। সলিসিটর জেনারেল অভিযোগ করেন, তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার সময় খেরা ‘ভুয়ো আধার কার্ড’ ব্যবহার করেছিলেন। যদিও খেরার কৌঁসুলি অভিষেক মনু সিংভি একে ‘সামান্য মানবিক ভুল’ বলে দাবি করেন, তবে শীর্ষ আদালত বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গেই দেখেছে। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, উচ্চ আদালতে ভুল নথিপত্র দাখিলের বিষয়টি উপেক্ষা করার মতো নয়। তবে ভবিষ্যতে আইনি প্রক্রিয়া যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেজন্য গৌহাটি হাইকোর্টকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তারা যেন কোনো পূর্বনির্ধারিত ধারণা ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে এই মামলার শুনানি সম্পন্ন করে।

দীর্ঘদিন ধরেই আসামের মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও পাসপোর্ট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে সরব কংগ্রেস নেতা পবন খেরা। এই ঘটনার জেরেই রিনিকি ভুঁয়া শর্মা তাঁর বিরুদ্ধে মানহানি মামলা দায়ের করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মামলা কেবল আইনি গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাতের একটি নতুন মোড়। আদালতের সাম্প্রতিকতম নির্দেশ পবন খেরার রাজনৈতিক সক্রিয়তার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • আইনি পরিস্থিতি: সুপ্রিম কোর্ট খেরার অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন খারিজ করে গৌহাটি হাইকোর্টে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
  • বিতর্কের কারণ: মুখ্যমন্ত্রী-পত্নী রিনিকি ভুঁয়া শর্মার দায়ের করা মানহানি মামলা এবং জামিনের আবেদনের নথিপত্রে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ।
  • আদালতের বার্তা: হাইকোর্টকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আগের কোনো পর্যবেক্ষণ ছাড়াই নিরপেক্ষভাবে এই আবেদনের বিচার করতে হবে।
  • প্রভাব: গ্রেফতারি এড়ানোর লড়াইয়ে কংগ্রেস নেতা এখন গৌহাটি হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *