ট্রাম্পের মুখে মোদির জয়গান, বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ কি তবে বদলাচ্ছে?

মোদি-ট্রাম্প ফোনালাপ ও জ্বালানি আমদানিতে মার্কিন কড়াকড়ি: ভারতের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রায় ৪০ মিনিটের এক দীর্ঘ ফোনালাপের পর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার নতুন রসদ তৈরি হয়েছে। ফোনালাপের পর ট্রাম্প সরাসরি মোদির কাজের প্রশংসা করে তাকে ‘দারুণ বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। যদিও তাদের আলোচনার বিস্তারিত বিষয়ে মুখ খোলেননি ট্রাম্প, তবে ধারণা করা হচ্ছে, পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব বিবেচনা করলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই আলোচনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
জ্বালানি আমদানিতে কড়াকড়ি ও ভারতের উদ্বেগ
একদিকে কূটনৈতিক সুসম্পর্কের বার্তা পাওয়া গেলেও, অন্যদিকে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে অস্বস্তিতে পড়েছে দিল্লি। মার্কিন প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে, রুশ ও ইরানি তেল কেনার জন্য দেওয়া বিশেষ ছাড় আর নবীকরণ করা হবে না। এতদিন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভারতসহ বিভিন্ন দেশ এই ছাড়ের সুবিধা নিয়ে বিপুল পরিমাণ রুশ তেল আমদানি করতে পেরেছিল। তবে মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্টের সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, এখন থেকে এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। ভারতের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশই আমদানি করতে হয়, যার বড় অংশই আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। এমতাবস্থায় এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এক ঝলকে
- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে প্রায় ৪০ মিনিটের দ্বিপাক্ষিক ফোনালাপ হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।
- রুশ ও ইরানি তেল আমদানির বিশেষ ছাড়ের মেয়াদ বাড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
- হরমুজ প্রণালী ঘিরে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জ্বালানি আমদানির নতুন কড়াকড়ি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
- ভারত তার জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকে।