চাণক্যও লজ্জা পেতেন! প্রিয়াঙ্কার শ্লেষে হাসিতে ফেটে পড়লেন শাহ?

সংসদে প্রিয়াঙ্কার নিশানায় অমিত শাহের ‘কূটনীতি’, তীব্র বিতর্কের মুখে আসন পুনর্বিন্যাস বিল
আধুনিক ভারতীয় রাজনীতির ‘চাণক্য’ হিসেবে পরিচিত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে এবার বিঁধলেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল সংক্রান্ত বিতর্কের সময় প্রিয়াঙ্কা অভিযোগ করেন, এই বিলের আড়ালে আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন বিল চাপিয়ে দিয়ে গণতন্ত্রকে শেষ করার চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। তিনি সুর চড়িয়ে মন্তব্য করেন, “আপনার এমন সব কূট চাল দেখলে স্বয়ং চাণক্যও লজ্জা পেতেন।” প্রিয়াঙ্কার এই মন্তব্যে ভরা সংসদে হাস্যরসের সৃষ্টি হলেও, এর পেছনে থাকা রাজনৈতিক উত্তাপ ছিল স্পষ্ট।
আসন পুনর্বিন্যাস ও কেন্দ্রের ক্ষমতা নিয়ে ধোঁয়াশা
মূলত সরকার নতুন এই আইনের মাধ্যমে আসন পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে চাইছে। নতুন বিলটিতে জনগণনার বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে সরকারের মর্জিমাফিক আসন পুনর্বিন্যাসের সুযোগ রাখা হয়েছে, যা নিয়েই আপত্তি বিরোধীদের। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে সংবিধানের সংশোধনীর গুরুত্ব খর্ব হবে এবং প্রশাসনিক ইচ্ছামতো নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ করা হবে। এই বিতর্ক এতটাই ঘনীভূত হয়েছে যে, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত এ নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা চলেছে লোকসভায়।
সরকারের এই পদক্ষেপের সম্ভাব্য প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিরোধীদের অভিযোগ, মহিলা সংরক্ষণের নামে আসলে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির লক্ষ্য নিয়েই সরকার ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়াকে নিজেদের কবজায় রাখতে চাইছে। এই আইন পাস হলে ভবিষ্যতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার কাঠামো পরিবর্তন করা সরকারের জন্য অনেক সহজ হয়ে পড়বে, যা সংসদীয় গণতন্ত্রের ভারসাম্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলেই বিরোধী শিবিরের দাবি।
এক ঝলকে
- লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ আইনের আড়ালে আসন পুনর্বিন্যাস বিল পেশ নিয়ে তীব্র বিরোধিতা করলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।
- অমিত শাহকে উদ্দেশ্য করে প্রিয়াঙ্কার ‘চাণক্য’ মন্তব্য ঘিরে সংসদে রাজনৈতিক উত্তাপ ও হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।
- সরকার চাইছে নতুন কোনো জনগণনা ছাড়াই নিজেদের শর্তে আসন পুনর্বিন্যাস করতে, যা নিয়ে বিরোধীদের মূল আপত্তি।
- বিতর্কিত এই বিলটি আইন হিসেবে কার্যকর হলে ভবিষ্যতে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সরকারের নিয়ন্ত্রণ বহুগুণ বেড়ে যাবে বলে সরব বিরোধী শিবির।