যুবসাথীর টাকা নিয়ে চিন্তা? পেমেন্ট স্ট্যাটাস পেন্ডিং থাকলে এখনই করুন এই ৩টি কাজ!

যুবসাথী প্রকল্পের বকেয়া ভাতা: আধার ও ব্যাঙ্ক তথ্যের জটিলতায় আটকে লক্ষ লক্ষ উপভোক্তার টাকা
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন রাজ্যের প্রায় ১ কোটি বেকার যুবক-যুবতী। কিন্তু মার্চ ও এপ্রিল মাসের ভাতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলছেন লক্ষ লক্ষ উপভোক্তা। যারা পোর্টালের স্ট্যাটাসে ‘পেন্ডিং’ বার্তা দেখছেন, তাদের মূলত আধার কার্ড ও ব্যাঙ্ক তথ্যের অসংগতির কারণে পেমেন্ট আটকে রয়েছে। সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা অর্থাৎ ‘ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ (DBT) চালু হওয়ার ফলেই মূলত এই প্রযুক্তিগত জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।
টাকা আটকে যাওয়ার মূল কারণ ও সমাধান
মূলত তিনটি কারণে অধিকাংশ উপভোক্তার টাকা রিজেক্ট হচ্ছে— ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার লিঙ্ক থাকলেও ডিবিটি অপশন সক্রিয় না থাকা, এনপিসিআই (NPCI) ম্যাপিংয়ে সমস্যা এবং পোর্টালের তথ্যের সঙ্গে আধার কার্ডের তথ্যে অমিল। এছাড়া ডেটা এন্ট্রির সময় ভুলবশত বহু আবেদনকারীর তথ্য ভুল নথিভুক্ত হয়েছে। এই সমস্যা সমাধানে উপভোক্তাদের অতি দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক শাখায় গিয়ে ‘আধার সিডিং’ ও ‘ডিবিটি’ সক্রিয় আছে কি না তা যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি, তথ্যের বড় কোনো ভুল থাকলে স্থানীয় এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ অফিসে গিয়ে সংশোধনের আবেদন করতে হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভুল তথ্যের কারণে বাতিল হওয়া ফর্মগুলোর তালিকা স্থানীয় বিডিও (BDO) অফিসে পাঠানো হয়েছে। যদিও বর্তমানে রাজ্যে নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর রয়েছে, তবুও কারিগরি ত্রুটি সংশোধনের কাজ বন্ধ নেই। উপভোক্তারা নিয়মিত এমপ্লয়মেন্ট ব্যাঙ্কের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে স্ট্যাটাস চেক করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে বকেয়া টাকা দ্রুত অ্যাকাউন্টে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এক ঝলকে
- আধার ও ব্যাঙ্ক তথ্যের অসংগতির কারণে যুবসাথী প্রকল্পের লক্ষ লক্ষ উপভোক্তার ভাতা আটকে রয়েছে।
- ডিবিটি সক্রিয় না থাকা, এনপিসিআই ম্যাপিং ও ডেটা এন্ট্রির ভুলই মূলত পেমেন্ট আটকে যাওয়ার কারণ।
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট যাচাই এবং প্রয়োজনে বিডিও বা এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ অফিসে যোগাযোগ করে তথ্য সংশোধনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
- নির্বাচনী আচরণবিধি চললেও কারিগরি ত্রুটি সংশোধনের প্রক্রিয়া চালু রয়েছে, যা সম্পন্ন হলে বকেয়া টাকা পাওয়া যাবে।