সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক নির্দেশ, ট্রাইব্যুনালের ছাড়পত্র ছাড়া কোনো ভোট নয়!

সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক নির্দেশ, ট্রাইব্যুনালের ছাড়পত্র ছাড়া কোনো ভোট নয়!

ভোট দেওয়ার অধিকার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থান, ট্রাইব্যুনালের রায়ের অপেক্ষায় ভোটাররা

ভোটের মুখে ভোটার তালিকা থেকে লক্ষাধিক নাগরিকের নাম বাদ পড়া নিয়ে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। যাঁদের নাম তালিকাভুক্ত নয় বা যাঁদের মামলা ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন, তাঁরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না—এমন ধোঁয়াশা কাটাতে সুপ্রিম কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। শীর্ষ আদালতের সাফ বার্তা, কেবল ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায়ে নাম অন্তর্ভুক্ত হলেই একজন নাগরিক ভোট দেওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। শুধু আবেদন করলেই ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার সুযোগ নেই।

নির্দিষ্ট সময়সীমার বেড়াজালে ভোটাধিকার

ভোটের সময়সূচি মাথায় রেখে আদালত একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। প্রথম দফার ভোটের ক্ষেত্রে ২১ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত আসার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল নাম অন্তর্ভুক্ত করলে তবেই সংশ্লিষ্ট ভোটার ভোট দিতে পারবেন। অন্যথায়, ট্রাইব্যুনালে আবেদন ঝুলে থাকলে বা বাতিল হলে ওই নাগরিক এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। সংবিধানে ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে এই রায় প্রদান করায় তা কার্যকর করতে আইনি কোনো বাধা নেই।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত তালিকায় প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারকে ‘বিবেচনাধীন’ রাখা হয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় ৩২ লক্ষ নাম ইতিমধ্যে ফেরানো হয়েছে। তবুও এখনো প্রায় ২৭ লক্ষের বেশি মানুষ ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার আশায় ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ফলে নির্বাচন কমিশন নিয়োজিত ‘ফ্রিজ’ করা ভোটার তালিকার জটিলতা কাটলেও, লক্ষাধিক ভোটারের ভাগ্যে এবার বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হলো।

এক ঝলকে

  • কেবলমাত্র ট্রাইব্যুনালের রায়ে নাম চূড়ান্ত হলেই ভোট দেওয়া সম্ভব, শুধু আবেদন যথেষ্ট নয়।
  • প্রথম দফার ভোটের জন্য ২১ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার জন্য ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
  • যাঁদের নাম ট্রাইব্যুনালে বাতিল হবে, তাঁরা কোনোভাবেই ভোট দিতে পারবেন না।
  • প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষ এখনো ট্রাইব্যুনালের রায়ের ওপর নির্ভর করে নিজেদের ভোটাধিকারের অপেক্ষায় রয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *