লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা কি দ্বিগুণ হচ্ছে? মহিলাদের জন্য বড় সুখবর!

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের লড়াই: জনকল্যাণ না কি রাজনীতির কৌশল?
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পটি এখন কেবল একটি সরকারি প্রকল্প নয়, বরং নির্বাচনী উত্তাপের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমুখী এই প্রকল্পের আওতায় সাধারণ শ্রেণির মহিলারা ১৫০০ টাকা এবং এসসি/এসটি শ্রেণির মহিলারা ১৭০০ টাকা করে মাসিক ভাতা পাচ্ছেন। তৃণমূল সরকারের দাবি, সর্বজনীন এই মডেলের মাধ্যমে রাজ্যের প্রতিটি স্তরের মহিলাকে আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
বিজেপির পাল্টা প্রতিশ্রুতি ও মডেল বিতর্ক
পাল্টা রাজনৈতিক চাল চেলেছে প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, ক্ষমতায় এলে এই ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে ৩০০০ টাকা করা হবে। তবে এই বড় অংকের ভাতার সঙ্গে একটি বিশেষ শর্ত যুক্ত করার ইঙ্গিত দিয়েছে তারা। বিজেপি চাইছে সর্বজনীন মডেল বদলে শুধুমাত্র আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল বা অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের নারীদেরই এই সুবিধার আওতায় আনতে। অর্থাৎ, সুবিধাভোগীর সংখ্যা কমিয়ে ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে বিজেপি, যা রাজ্যের চলমান ‘ইউনিভার্সাল’ মডেলের ঠিক বিপরীত।
এই দুই ভিন্ন মডেলের লড়াই মূলত উপভোক্তা ও ভোটের অঙ্কের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে তৃণমূল সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠ নারীকে নির্দিষ্ট অংকের আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে সামাজিক ভারসাম্য রাখতে চায়, অন্যদিকে বিজেপির লক্ষ্য উপভোক্তার সংখ্যা ছাঁটাই করে নির্দিষ্ট শ্রেণিকে বৃহত্তর আর্থিক সুবিধা দিয়ে নিজেদের দিকে টানা। শেষ পর্যন্ত এই দুই কৌশলের মধ্যে বাংলার মহিলারা কোনটিকে বেছে নেবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিশ্লেষণ চলছে।
এক ঝলকে
- বর্তমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ১৫০০ থেকে ১৭০০ টাকা পর্যন্ত মাসিক ভাতা দিচ্ছে রাজ্য সরকার।
- বিজেপি ক্ষমতায় এলে ভাতার পরিমাণ ৩০০০ টাকা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
- বিজেপি সুবিধাভোগীদের সংখ্যা কমিয়ে কেবল অসহায়দের ওপর সীমাবদ্ধ রাখার মডেল প্রস্তাব করেছে।
- রাজ্য সরকার ‘সর্বজনীন’ বা সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করার মডেলে অটল রয়েছে।