ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা! হাইকোর্টের কড়া নির্দেশে ঘুম উড়ল প্রশাসনের?

ভোটার তালিকায় নাম নেই আইনজীবীর, হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে লড়াই নাগরিক অধিকারের
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার বা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চেয়েও বিপাকে পড়েছেন আইনজীবী গোলাম মহিউদ্দিন। ভোটার তালিকা বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার জেরে হঠাৎই তাঁর নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। গত ৫ এপ্রিল নির্বাচন ট্রাইব্যুনালের কাছে আপিল করলেও ভোটের মুখে এখনও মেলেনি সমাধান। হাতে সময় অত্যন্ত কম থাকায় দ্রুত ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় তিনি শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।
আদালতের অবস্থান ও আইনি জটিলতা
বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে মামলাটি উঠলে আবেদনকারীর পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালের দ্রুত সিদ্ধান্তের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। আদালত পুরো বিষয়টি পর্যালোচনার পর সরাসরি হস্তক্ষেপে কিছুটা সংযত থেকে ট্রাইব্যুনালকে দ্রুত শুনানির অনুরোধ জানায়। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, সরাসরি আদালতের হস্তক্ষেপ সব ক্ষেত্রে নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে, যা ভবিষ্যতে প্রশাসনিক জটিলতা বাড়িয়ে দেবে। তবে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশ অনুযায়ী, প্রথম দফার ভোটের জন্য ২১ এপ্রিলের মধ্যে নাম নিষ্পত্তি হলে ভোটাধিকার কার্যকর হবে, যা এই আইনজীবীর লড়াইয়ে নতুন আশায় সঞ্চার করেছে।
ভোটার তালিকা থেকে এ ধরনের নাম বাদ পড়ার ঘটনা প্রশাসনিক ত্রুটির দিকেই ইঙ্গিত করে, যার ফলে একজন সচেতন নাগরিক তাঁর ব্যক্তিনিয়ন্ত্রণের বাইরের কারণে মূল্যবান ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার মুখে দাঁড়িয়েছেন। ২৩ এপ্রিলের ভোটগ্রহণের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসায় এখন ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এই লড়াই শেষপর্যন্ত নাগরিক অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে কি না, তা নিয়ে আইনি মহলে বাড়ছে কৌতূহল।
এক ঝলকে
- ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় ভোটাধিকার ফিরে পেতে হাইকোর্টে মামলা করেছেন আইনজীবী গোলাম মহিউদ্দিন।
- নির্বাচন ট্রাইব্যুনালে ৫ এপ্রিল আবেদন করলেও সময়মতো সুরাহা না মেলায় জরুরি শুনানির আর্জি জানানো হয়।
- আদালত সরাসরি কোনো নির্দেশ না দিলেও দ্রুত ফয়সালার জন্য ট্রাইব্যুনালকে অনুরোধ জানিয়েছে।
- সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২১ এপ্রিলের মধ্যে নাম নিষ্পত্তি হলেই প্রথম দফার ভোটের জন্য তিনি যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।