ভোটের মুখে নন্দীগ্রামে অডিও বিতর্ক! আইএসএফ প্রার্থীকে দলবদলের প্রস্তাব ঘিরে শোরগোল

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে নন্দীগ্রামে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। ভোটগ্রহণের মাত্র কয়েক দিন আগে একটি অডিও রেকর্ড ভাইরাল হওয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক দানা বেঁধেছে। ভাইরাল হওয়া ওই অডিওতে বামফ্রন্ট সমর্থিত আইএসএফ প্রার্থী মহম্মদ শবে মিরাজ আলি খানকে তৃণমূলে যোগদানের প্রস্তাব দিতে শোনা গিয়েছে স্থানীয় এক তৃণমূল নেতাকে। যদিও এই অডিওর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষই কথোপকথনের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন।
প্রস্তাব ও প্রত্যাখ্যানের লড়াই
ভাইরাল অডিওটিতে শোনা যাচ্ছে, সামসাবাদ অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি শেখ মনসুর আলি আইএসএফ প্রার্থীকে নিজের দল ছেড়ে শাসক শিবিরে শামিল হওয়ার জন্য বারংবার অনুরোধ করছেন। বিপরীতে, আইএসএফ প্রার্থী শবে মিরাজ অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, দলের আদর্শের সঙ্গে বেইমানি করে অন্য দলে যাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। রাজনীতির ময়দানে এই ঘটনা নৈতিকতা বনাম কৌশলী দলবদলের পুরোনো বিতর্ককে পুনরায় উসকে দিয়েছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই দোষারোপের পালা শুরু হয়েছে। তৃণমূল নেতা শেখ মনসুর আলির দাবি, দলের ভোট বাড়াতে তিনি কথা বলেছিলেন এবং এর পেছনে শুভেন্দু অধিকারীর ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। অন্যদিকে, আইএসএফ প্রার্থী মনে করছেন তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই তাঁদের নিজেদের লোকজন এই অডিও ভাইরাল করেছে। বিজেপি অবশ্য এই বিতর্কের সঙ্গে কোনো প্রকার যোগসূত্র অস্বীকার করে পালটা তৃণমূলের দিকেই আঙুল তুলেছে।
এই ঘটনা নন্দীগ্রামের ভোটারদের মধ্যে এক মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থীর দলবদলের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান তাঁর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করলেও, শাসক দলের এই আগ্রাসী রণকৌশল বিরোধী শিবিরে চাঞ্চল্য বাড়িয়েছে। ২০২১ সালের স্মৃতি ফিরিয়ে আনা এই অডিও বিতর্ক শেষ পর্যন্ত ব্যালট বক্সে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
এক ঝলকে
- নন্দীগ্রামের বাম-আইএসএফ জোট প্রার্থীকে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে করা ফোনের অডিও ভাইরাল।
- তৃণমূল নেতা শেখ মনসুর আলি প্রস্তাব দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও একে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন।
- আইএসএফ প্রার্থী শবে মিরাজ নৈতিকতার প্রশ্নে তৃণমূলে যোগদানের প্রস্তাব সরাসরি ফিরিয়ে দিয়েছেন।
- বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে এই ঘটনায় নন্দীগ্রামে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।