কমেছে তেলের দাম আর কাটছে যুদ্ধের মেঘ! বিশ্ব বাণিজ্যের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ইরানের

বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত ‘হরমোজ প্রণালী’ নিয়ে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার অবসান ঘটল। লেবাননে যুদ্ধবিরতি অব্যাহত থাকা পর্যন্ত এই সামুদ্রিক পথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শান্তি প্রক্রিয়া ও ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
ইরানের এই ইতিবাচক পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, হরমোজ প্রণালী এখন পুরোপুরি উন্মুক্ত। তবে দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত কোনো চুক্তি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর নজরদারি ও কিছু বিধিনিষেধ বলবৎ থাকবে। ইরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে তারা এই জলপথকে কখনও অবরোধ করবে না বা বিশ্ব সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে না।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার খবরও নিশ্চিত করেছেন ট্রাম্প। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের সঙ্গে বৃহত্তর শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই সামুদ্রিক করিডোর খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্রিটেন ও ফ্রান্স এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানালেও তারা দাবি করেছে যে, এই পথটি যেন কেবল সাময়িক নয় বরং স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত রাখা হয়। সমুদ্রপথের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আগামী সপ্তাহে লন্ডনে একটি আন্তর্জাতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
হরমোজ প্রণালী খুলে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা অনেকটাই প্রশমিত হবে। তবে আমেরিকার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং এই শান্তি চুক্তি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
এক ঝলকে
- ইরান-মার্কিন আলোচনার পর বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য হরমোজ প্রণালী খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত।
- আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ১০ শতাংশ কমেছে।
- ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি এবং হোয়াইট হাউসে শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের সম্ভাবনা।
- জলপথটিকে ভবিষ্যতে কখনও অবরোধ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরান।