ইসলামাবাদে হাইভোল্টেজ শান্তি বৈঠক, মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য নির্ধারণে আসরে নামছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প!

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের মেঘ কাটাতে আবারও পাকিস্তানের মাটিতে মুখোমুখি বসতে চলেছে ইরান ও আমেরিকা। আগামী ২১ এপ্রিল সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগের দিন অর্থাৎ ২০ এপ্রিল ইসলামাবাদে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কাতার, তুরস্ক ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় আয়োজিত এই আলোচনায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। গত ১১ এপ্রিলের প্রথম দফার বৈঠকটি ২১ ঘণ্টা স্থায়ী হলেও কোনো সমাধান মেলেনি, ফলে এবারের আলোচনার দিকে তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব।
যুদ্ধ থামাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বার্তা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই শান্তি বৈঠকে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, যদি ইসলামাবাদে কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা তৈরি হয়, তবে তিনি সশরীরে সেখানে উপস্থিত হতে পারেন। ট্রাম্পের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব। ট্রাম্পের এই ইতিবাচক মনোভাবকে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা যুদ্ধের দামামা থামানোর একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
কূটনৈতিক তৎপরতা ও সম্ভাব্য প্রভাব
বৈঠকের চূড়ান্ত প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কাতারের আমির এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। অন্যদিকে, ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেইর পক্ষ থেকে কে এই বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করবেন, তা নিয়ে এখনো গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছে। ২০ এপ্রিলের এই আলোচনায় যদি কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না আসে, তবে ২১ তারিখ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ফুরালেই মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হয়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
এক ঝলকে
- ২০ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন প্রয়োজনে তিনি নিজেই এই বৈঠকে যোগ দিয়ে শান্তিচুক্তিতে সই করতে পারেন।
- ২১ এপ্রিল চলতি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলায় এই বৈঠকের ফলাফল মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- কাতার, তুরস্ক ও পাকিস্তান এই সংকট মেটাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।