ভারতজুড়ে সেমিকন্ডাক্টর বিপ্লবের মহোৎসব, ছয় রাজ্যে বিনিয়োগ হচ্ছে ১.৬০ লক্ষ কোটি টাকা!

ভারতজুড়ে সেমিকন্ডাক্টর বিপ্লবের মহোৎসব, ছয় রাজ্যে বিনিয়োগ হচ্ছে ১.৬০ লক্ষ কোটি টাকা!

ভারতকে বিশ্বব্যাপী চিপ তৈরির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ‘সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডিয়া’ (ISM 1.0) কর্মসূচির আওতায় গুজরাট, আসাম, ওড়িশা, পাঞ্জাব এবং অন্ধ্রপ্রদেশসহ মোট ছয়টি রাজ্যে ১০টি বড় প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। টাটা ইলেকট্রনিক্স, মাইক্রন এবং সিজি পাওয়ারের মতো প্রথম সারির সংস্থাগুলো এই বিশাল কর্মযজ্ঞে শামিল হয়েছে। মোট ১ লক্ষ ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশজুড়ে অ্যাসেম্বলি, টেস্টিং এবং চিপ তৈরির কারখানা (ফ্যাব ইউনিট) গড়ে তোলা হচ্ছে।

প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত ও ওড়িশার উত্থান

এই প্রকল্পের অন্যতম মাইলফলক হিসেবে ১৯ এপ্রিল ওড়িশার ভুবনেশ্বরে দেশের প্রথম ‘অ্যাডভান্সড ৩ডি গ্লাস সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং’ ইউনিটের শিলন্যাস হতে চলেছে। প্রায় ১,৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই কারখানাটি সাধারণ চিপ তৈরির কেন্দ্র নয়, বরং এটি পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তি। এখানে ব্যবহৃত গ্লাস সাবস্ট্রেট টেকনোলজি মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক যাত্রার সূচনা হবে।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও স্বনির্ভরতার পথে ভারত

ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের অধীনে দুটি ইউনিট ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের শেষ প্রান্তিকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে দিয়েছে। এই বিশাল বিনিয়োগের ফলে কেবল কর্মসংস্থানই বাড়বে না, বরং বিশ্ব বাজারে ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রাংশের জন্য অন্যান্য দেশের ওপর ভারতের নির্ভরতা অনেকটাই কমবে। উন্নত প্রযুক্তির স্থানীয় উৎপাদন ভারতকে গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

এক ঝলকে

  • ভারত সরকার ৬টি রাজ্যে ১০টি সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্পের জন্য ১.৬০ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ অনুমোদন করেছে।
  • ১৯ এপ্রিল ভুবনেশ্বরে দেশের প্রথম অ্যাডভান্সড ৩ডি গ্লাস সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং ইউনিটের শিলন্যাস হবে।
  • টাটা ও মাইক্রনের মতো বড় সংস্থাগুলো এই প্রকল্পে যুক্ত রয়েছে এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
  • এই উদ্যোগের ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *