ভোটের মুখে কলকাতায় বড় সাফল্য, রাজাবাজারে বিপুল আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ১

ভোটের মুখে কলকাতায় বড় সাফল্য, রাজাবাজারে বিপুল আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ১

নির্বাচনী আবহে মহানগরীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বড়সড় সাফল্য পেল কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। শনিবার দুপুরে রাজাবাজার সায়েন্স কলেজ সংলগ্ন এপিসি রোড এলাকায় ঝটিতি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করেছেন গোয়েন্দারা। এই ঘটনায় সোহেল আখতার নামে ৪৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার বাড়ি বিহারের নালন্দা জেলায়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এসটিএফ টিম আমহার্স্ট স্ট্রিট থানা এলাকায় ওত পেতে ছিল এবং সন্দেহভাজনকে আটক করার পরেই উদ্ধার হয় অবৈধ অস্ত্রের এই বড় চালান।

উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের খতিয়ান ও আইনি পদক্ষেপ

ধৃত সোহেল আখতারের কাছ থেকে মোট ৬টি দেশীয় একনলা আগ্নেয়াস্ত্র এবং ১৪টি ৮ মিমি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ওই ব্যক্তি এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র রাখার কোনো বৈধ নথি বা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। ধৃতের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের ২৫(১বি)(এ)/২৯ ধারা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বিহার থেকে এই অস্ত্রগুলি কলকাতা বা পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে কোনো বড় অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার বা পাচারের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল।

অস্ত্র পাচার চক্রের শিকড়ের সন্ধানে তদন্ত

গোয়েন্দাদের অনুমান, এই ঘটনার নেপথ্যে কোনো আন্তঃরাজ্য অস্ত্র পাচারকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে। ধৃত ব্যক্তিটি শুধুমাত্র বাহক হিসেবে কাজ করছিল নাকি সে এই চক্রের মূল পান্ডা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভোটের আগে শহরে এই ধরনের মারণাস্ত্র প্রবেশ করার বিষয়টি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ মনে করছে, অভিযুক্তকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই কারবারের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের হদিস মেলা সম্ভব হবে। সময়মতো এই অভিযান চলায় কলকাতায় বড় কোনো নাশকতামূলক ছক বানচাল করা গিয়েছে বলে মনে করছে লালবাজার।

এক ঝলকে

  • রাজাবাজার সায়েন্স কলেজের সামনে থেকে ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৪টি কার্তুজ উদ্ধার।
  • বিহারের নালন্দার বাসিন্দা সোহেল আখতারকে হাতেনাতে গ্রেফতার করল এসটিএফ।
  • নির্বাচনী আবহে বড়সড় অপরাধমূলক ছক বানচালের দাবি পুলিশের।
  • ধৃতের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন ও ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *