“ঐতিহাসিক ভুল করেছেন, আজীবন পস্তাতে হবে!” মহিলা বিল ইস্যুতে বিরোধীদের তুলোধনা মোদীর

“ঐতিহাসিক ভুল করেছেন, আজীবন পস্তাতে হবে!” মহিলা বিল ইস্যুতে বিরোধীদের তুলোধনা মোদীর

লোকসভায় নারী সংরক্ষণ বিল তথা ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল পাস না হওয়ায় বিরোধী দলগুলোর ওপর তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানান, এই বিল আটকে দিয়ে বিরোধীরা এক ঐতিহাসিক ভুল করেছেন, যার জন্য তাদের আজীবন অনুশোচনা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, নারী ক্ষমতায়নের এই মহৎ প্রচেষ্টায় বাধা দিয়ে বিরোধীরা আসলে দেশের নারী সমাজকেই চরম হতাশ করেছেন।

রাজনৈতিক সংঘাত ও পাল্টা আক্রমণ

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, কয়েক দশকের পুরনো স্বপ্ন পূরণের এই সুযোগটি বিরোধীরা কেবল সংকীর্ণ রাজনীতির কারণে নষ্ট করেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং সরাসরি কংগ্রেসকে নিশানা করে বলেন, নারী অধিকার হরণ করাই তাদের মজ্জাগত স্বভাব। অন্যদিকে, বিজেপি সাংসদ সঞ্জয় জয়সওয়াল হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের নারীদের গণবিক্ষোভের মুখে পড়ে বিরোধীরাই এই বিল পাস করানোর জন্য সওয়াল করতে বাধ্য হবে। শাসক দল এখন এই ইস্যুটিকে দেশের প্রতিটি গ্রাম ও ঘরে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

বিরোধীদের অবস্থান ও মূল আপত্তি

বিরোধীরা নারী সংরক্ষণের নীতিগত সমর্থক হলেও বর্তমান বিলের কিছু কারিগরি দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে, বিলটিকে আদমশুমারি ও সীমানা পুনর্নির্ধারণের (ডিলিমিটেশন) শর্তের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টিতে তাদের প্রবল আপত্তি রয়েছে। বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধীর মতে, এটি ভারতের নির্বাচনী কাঠামো পরিবর্তনের একটি কৌশল মাত্র। এছাড়া দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো আশঙ্কা করছে যে, সীমানা পুনর্নির্ধারণের ফলে সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব কমে যেতে পারে, যা এই বিরোধিতার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এক ঝলকে

  • লোকসভায় ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল বা নারী সংরক্ষণ বিল ভেস্তে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
  • বিরোধীরা নারী ক্ষমতায়নের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছেন বলে শাসক দলের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।
  • আদমশুমারি ও সীমানা পুনর্নির্ধারণের শর্ত এবং দক্ষিণ ভারতের প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কায় বিলটির বিরোধিতা করছে বিরোধী পক্ষ।
  • বিজেপি এই বিল ব্যর্থ হওয়ার দায় বিরোধীদের ওপর চাপিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রচার কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *