শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশনের কড়া দাওয়াই, এবার গলিঘুঁজিতে চলবে পুলিশের বাইক বাহিনী!

বাংলার ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় একগুচ্ছ নজিরবিহীন নির্দেশিকা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। শনিবার রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে সাফ জানানো হয়েছে, যাদের নামে জামিন অযোগ্য পরোয়ানা বা ওয়ারেন্ট রয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। কোনো দাগি অপরাধী যাতে এলাকায় মুক্ত অবস্থায় দাপিয়ে বেড়াতে না পারে, সেই দায়িত্ব সরাসরি সংশ্লিষ্ট থানার ওসি-দের ওপর বর্তানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে পুলিশকে যথাযথ বলপ্রয়োগের স্বাধীনতাও দিয়েছে কমিশন।
গলিঘুঁজির অশান্তি রুখতে বাইক বাহিনী
ভোটের দিন সরু গলি বা ঘিঞ্জি এলাকায় দ্রুত পৌঁছানোর পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় পুলিশের পিসিআর ভ্যান। এই সমস্যার সমাধানে কমিশন এবার ‘মোটরবাইক বাহিনী’ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে। শহরের উত্তর ও দক্ষিণ শহরতলির এমন অনেক বুথ রয়েছে যেখানে বড় গাড়ি ঢোকা আসাম্ভব। সেই সমস্ত স্পর্শকাতর এলাকায় গোলমাল শুরু হওয়া মাত্রই যাতে পুলিশ বুথের দোরগোড়ায় পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে, তার জন্য প্রতিটি থানাকে বাইক বাহিনী প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।
কঠোর নজরদারি ও পরিকাঠামো উন্নয়ন
কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, পরিকাঠামোর অভাবকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কাজে কোনো শিথিলতা সহ্য করা হবে না। যেসব থানায় পর্যাপ্ত মোটরসাইকেল নেই, তালিকা দিলে কমিশন নিজেই সেই যান সরবরাহের ব্যবস্থা করবে। মূলত ভোটারদের মনে ভয় দূর করে আত্মবিশ্বাস জোগানো এবং বুথ স্তরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের এখন প্রধান লক্ষ্য। রাজনৈতিক সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিলে পুলিশকে তাৎক্ষণিক ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক ঝলকে
- আইন-শৃঙ্খলার স্বার্থে ওয়ারেন্ট থাকা ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেফতারের নির্দেশ।
- ঘিঞ্জি এলাকার বুথগুলোতে দ্রুত পৌঁছাতে বিশেষ পুলিশি বাইক বাহিনী মোতায়েন।
- প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ এবং পরিস্থিতির মোকাবিলায় ওসি-দের কঠোর হওয়ার বার্তা।
- যানের অভাব থাকলে কমিশন নিজেই পুলিশকে বাইক সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।