মহাকাশে ভারতের জয়যাত্রা অব্যাহত! ২০২৭ সালেই উৎক্ষেপণ হচ্ছে বিশেষ জি২০ স্যাটেলাইট

মহাকাশ গবেষণায় বিশ্বের দরবারে ভারতের প্রভাব আরও জোরালো করতে বড় ঘোষণা দিল ইসরো। শনিবার এক অনুষ্ঠানে ইসরো প্রধান ভি নারায়ণন জানান, ২০২৭ সালের মধ্যে ‘জি২০ স্যাটেলাইট’ উৎক্ষেপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মূলত জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ুদূষণ এবং আবহাওয়ার সঠিক পূর্বাভাস প্রদানের লক্ষ্যে এই অত্যাধুনিক কৃত্রিম উপগ্রহটি নকশা করা হচ্ছে। ভারত এই অভিযানে প্রধান ভূমিকা পালন করছে, যা আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পরিচয় দেবে।
পরিবেশ রক্ষা ও বিপর্যয় মোকাবিলায় নতুন দিগন্ত
এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য হলো পরিবেশগত তথ্য সংগ্রহ এবং বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তনের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা। এই উপগ্রহটি সক্রিয় হলে জি২০ দেশগুলো জলবায়ু সংক্রান্ত সংকট মোকাবিলায় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস পেতে বড় ধরনের সুবিধা পাবে। ভারতের এই নেতৃত্বাধীন উদ্যোগটি মূলত বিশ্বব্যাপী পরিবেশগত ডেটা শেয়ারিং এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
২০৪০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য
ইসরো প্রধান তাঁর বক্তব্যে ভারতের ভবিষ্যৎ মহাকাশ পরিকল্পনার একটি নীলনকশাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০৪০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যে দ্রুত কাজ চলছে। ইতিমধ্যে ইসরো ৩৪টি দেশের ৪৩৩টি বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট সফলভাবে মহাকাশে পাঠিয়ে বিশ্বস্ত মহাকাশ সংস্থা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছে। পাশাপাশি গভীর সমুদ্র অভিযানের জন্য বিশেষ টাইটানিয়াম যান তৈরির কাজও পুরোদমে এগোচ্ছে, যা ‘ব্লু ইকোনমি’ বা সমুদ্র অর্থনীতিতে ভারতের শক্তি বৃদ্ধি করবে।
এক ঝলকে
- ২০২৭ সালে ভারত ও জি২০ দেশগুলোর যৌথ উদ্যোগে লঞ্চ হবে বিশেষ পরিবেশবান্ধব স্যাটেলাইট।
- এই স্যাটেলাইটটি মূলত জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ুদূষণ এবং আবহাওয়ার নিখুঁত পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত হবে।
- ২০৪০ সালের মধ্যে চাঁদে ভারতীয় মহাকাশচারী পাঠানোর মহাকাশ পরিকল্পনা প্রকাশ করল ইসরো।
- বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে ভারত ইতিমধ্যে ৩৪টি দেশের ৪৩৩টি উপগ্রহ কক্ষপথে স্থাপন করেছে।