নয়ডা সহিংসতায় হুলিয়া বদলে পুলিশের জালে মাস্টারমাইন্ড আদিত্য আনন্দ

উত্তরপ্রদেশ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) ও নয়ডা পুলিশের যৌথ অভিযানে অবশেষে ধরা পড়ল নয়ডার শ্রমিক সহিংসতার প্রধান উস্কানিদাতা আদিত্য আনন্দ। ১ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষিত এই পলাতক আসামিকে তামিলনাড়ুর তিরুচিরাপল্লী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার এড়াতে আদিত্য নিজের পরিচয় গোপন করে দাড়ি-গোঁফ কেটে সম্পূর্ণ ভিন্ন বেশে আত্মগোপন করেছিলেন।
পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে ডিজিটাল নেটওয়ার্ক
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই সহিংসতা কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত আন্তর্জাতিক স্তরের ষড়যন্ত্র। ডিডিপি শৈব্যা গোয়েল জানিয়েছেন, বিক্ষোভের অন্তত তিন দিন আগে থেকে ৮০টিরও বেশি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করা হয়েছিল। আশ্চর্যজনকভাবে, এসব গ্রুপে শ্রমিকদের বেতন বা অধিকার নিয়ে আলোচনার বদলে ফ্যাক্টরিতে ভাঙচুর ও ভিড় জমানোর ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করা হয়।
উস্কানিমূলক ভাষণ ও সহিংসতার প্রভাব
গত ১১ এপ্রিল প্রশাসন ও শ্রমিকদের মধ্যে শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হলেও আদিত্য আনন্দসহ কয়েকজন উস্কানিদাতার প্ররোচনায় ১৩ এপ্রিল মাদারসন (Motherson) প্ল্যান্টের সামনে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। অগ্নিসংযোগ ও পাথর ছুড়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা হয়। সহিংসতার এই তীব্রতার পরেই উত্তরপ্রদেশ সরকার তড়িঘড়ি করে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি ও ‘ওয়েজ বোর্ড’ গঠনের ঘোষণা দেয়।
এক ঝলকে
- তামিলনাড়ু থেকে নয়ডা সহিংসতার প্রধান অভিযুক্ত আদিত্য আনন্দকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
- সহিংসতা ছড়াতে ৮০টির বেশি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ব্যবহার করে নীল নকশা সাজানো হয়েছিল।
- শান্তিচুক্তির পরেও উস্কানিমূলক ভাষণের মাধ্যমে ১৩ এপ্রিল মাদারসন প্ল্যান্টে হামলা চালানো হয়।
- ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরপ্রদেশ সরকার ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি ও নতুন ওয়েজ বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।