নারী শক্তির জয়যাত্রা রুখতে পারবে না কেউ, উত্তাল রাজনীতিতে মোদীর বড় বার্তা

নারী শক্তির জয়যাত্রা রুখতে পারবে না কেউ, উত্তাল রাজনীতিতে মোদীর বড় বার্তা

মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই বিল পাসে বাধা সৃষ্টির জন্য নাম না করে বিরোধী দলগুলোর তীব্র সমালোচনা করে তিনি জানান, সংসদের ভেতরে সংখ্যাতত্ত্বের লড়াইয়ে সাময়িক বাধা এলেও নারী শক্তির ক্ষমতায়ন কেউ রুখতে পারবে না। ভাষণে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ২০২৭ সালের জনগণনা শেষ হওয়ার পর সীমানা পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমেই এই আইন কার্যকর করার পথে হাঁটবে সরকার।

রাজনৈতিক বিতর্ক ও পরিসংখ্যানের লড়াই

প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণকে একটি রাজনৈতিক প্রচারণায় পরিণত করেছেন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে পাল্টা আক্রমণ করে জানিয়েছেন, ভাষণে মহিলাদের চেয়ে ৫৯ বার কংগ্রেসের নাম বেশি নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনী আচরণবিধি বলবৎ থাকাকালীন এই ধরনের ভাষণকে গণতন্ত্রের অবমাননা হিসেবে দেখছে বিরোধী শিবির। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে বিরোধীরাই পরিকল্পিতভাবে এই ঐতিহাসিক বিলের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আইনি জটিলতা

মহিলা সংরক্ষণ বিলটি কার্যকর করার ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রধান বাধা হলো লোকসভা আসনগুলোর সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন। ২০২৭ সালে ভারতের পরবর্তী জনগণনা শেষ হওয়ার পর এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার চাইলে সীমানা পুনর্নির্ধারণের শর্ত বাদ দিয়ে বর্তমান ৫৪৩টি আসনের ভিত্তিতেই সংরক্ষণ কার্যকর করার পথে এগোতে পারে। এই প্রযুক্তিগত এবং সাংবিধানিক দিকগুলো নিয়ে বর্তমানে সরকারি পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা চলছে যা আগামী নির্বাচনগুলোতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এক ঝলকে

  • প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মহিলা সংরক্ষণ বিল পাসে বাধা দেওয়ার জন্য বিরোধী জোটের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
  • কংগ্রেসের দাবি, প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ৫৯ বার তাঁদের দলের নাম নিয়ে রাজনীতি করেছেন।
  • ২০২৭ সালের পরবর্তী জনগণনা শেষ হওয়ার পর আসন পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে সংরক্ষণ কার্যকর হতে পারে।
  • লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে নারীদের ৩৩ শতাংশ অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে সরকার আইনি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *