মুখ্যমন্ত্রীর সভায় ভিআইপি ডিউটিতে সাপ ধরার বিশেষজ্ঞ! ভাঙড়ে নজর কাড়লেন কাবিল

নিরাপত্তার চাদরে মোড়া মুখ্যমন্ত্রীর জনসভায় সাধারণত পুলিশ, গোয়েন্দা বা দমকল বাহিনীর তৎপরতা চোখে পড়ে। তবে শনিবার ভাঙড়ের ভোজেরহাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভামঞ্চের নেপথ্যে এক ভিন্নধর্মী দৃশ্য ধরা পড়ল। হাতে বিশেষ লোহার রড নিয়ে হাফ হাতা শার্ট পরিহিত এক ব্যক্তিকে ভিআইপি ডিউটি করতে দেখা যায়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি ক্যানিংয়ের জীবনতলার বাসিন্দা কাবিল জমাদার, যাঁর বিশেষ দায়িত্ব ছিল সভাস্থলে সাপের উপদ্রব ঠেকানো।
নিরাপত্তার অভিনব প্রোটোকল
ভোজেরহাট ফুটবল মাঠের চারপাশে ঘন জঙ্গল, ঝোপঝাড় এবং পুরোনো কলকারখানা থাকায় বিষধর সাপের উপস্থিতির আশঙ্কা ছিল প্রবল। সেই ঝুঁকি এড়াতে বন দপ্তর ও পুলিশের বিশেষ আমন্ত্রণে কাবিলকে নিয়ে আসা হয়। মূলত ভিআইপি নিরাপত্তায় কোনো রকম বিঘ্ন যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করতেই এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। বন দপ্তরের আধিকারিকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীর মতো উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিত্বদের সভায় পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে এই প্রোটোকল মেনে চলা হয়।
পরিবেশ ও নিরাপত্তার মেলবন্ধন
কাবিল জমাদার নিজেকে পেশাদার সাপুড়ে নয়, বরং সাপপ্রেমী হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সাপকে লোকালয় থেকে উদ্ধার করে পুনরায় প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়াই তাঁর নেশা ও কৌশল। তাঁর এই দক্ষতার কারণেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সভায় তাঁকে তলব করা হয়। যদিও শনিবারের সভায় কোনো সাপের দেখা মেলেনি, তবুও জনসভার নিরাপত্তায় এই বিশেষ সরীসৃপ বিশেষজ্ঞের উপস্থিতি আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে।
এক ঝলকে
- ভাঙড়ের ভোজেরহাটে মুখ্যমন্ত্রীর জনসভায় সাপ ধরার জন্য বিশেষজ্ঞ কাবিল জমাদারকে মোতায়েন করা হয়।
- সভাস্থলের চারপাশের ঘন জঙ্গল ও সাপের উপদ্রবের আশঙ্কা থেকেই বন দপ্তর এই সিদ্ধান্ত নেয়।
- ক্যানিংয়ের জীবনতলার বাসিন্দা কাবিল দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ রক্ষায় সাপ উদ্ধারের কাজ করছেন।
- ভিআইপি নিরাপত্তার প্রোটোকল অনুযায়ী ঝোপঝাড়পূর্ণ এলাকায় এই ধরণের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।