“বিজেপিকে লুকিয়ে সাহায্য করলে দল থেকে বের করে দেব!” বিদ্রোহী নেতাকে চরম হুঁশিয়ারি মমতার

পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরে এক জনসভা থেকে দলীয় কোন্দল ও অন্তর্ঘাত রুখতে কড়া অবস্থান নিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশেষত, টিকিট না পেয়ে যারা গোপনে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করে পরোক্ষভাবে বিজেপিকে সাহায্য করার অভিযোগে নাম না করে স্থানীয় নেতা আহমেদ হোসেন শেখকে দল থেকে বের করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী।
দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় আপসহীন নেত্রী
জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান যে, দলে থেকে যারা বিজেপির সঙ্গে আঁতাত করবে, তাদের জন্য তৃণমূলের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। বিশেষত মন্তেশ্বরের প্রার্থী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর বিপক্ষে প্রচার না চালানো এবং দলের কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকাকে তিনি চরম শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। নেত্রীর মতে, ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে বিরোধী শিবিরের হাত ধরা বা অর্থ দিয়ে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
রাজনৈতিক প্রভাব ও সংখ্যালঘু বার্তা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের প্রাক্কালে দলের অভ্যন্তরীণ ফাটল বন্ধ করতেই এই কঠোর বার্তা দিয়েছেন মমতা। একদিকে তিনি যেমন বিদ্রোহীদের বহিষ্কারের ভয় দেখিয়েছেন, অন্যদিকে ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষা এবং ইমামদের অধিকার নিয়ে সরব হয়ে সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক সুসংহত করার চেষ্টা করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই হুঁশিয়ারি নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে শৃঙ্খলার বার্তা দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- টিকিট না পেয়ে বিজেপির সাথে আঁতাত করার অভিযোগে বিদ্রোহী নেতাকে বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি।
- মন্তেশ্বরের দলীয় প্রার্থী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর হয়ে প্রচারে অনীহা নিয়ে ক্ষুব্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- দলে থেকে বিরোধী শিবিরের হয়ে কাজ বা অন্তর্ঘাত করা হলে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ।
- জনসভা থেকে ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষা ও সংখ্যালঘু সুরক্ষায় বিশেষ আশ্বাস প্রদান।