যুদ্ধবিরতির সুযোগে আরও শক্তিশালী ইরান: মিসাইল ও ড্রোনের ভাণ্ডার নিয়ে জেনারেল মুসাভির চাঞ্চল্যকর দাবি

আমেরিকার সঙ্গে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা নজিরবিহীনভাবে বাড়িয়ে নিয়েছে ইরান। ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার জেনারেল মুসাভি দাবি করেছেন, এই সময়ে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভাণ্ডার যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির চেয়েও দ্রুতগতিতে সমৃদ্ধ করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’র বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়ছে।
প্রতিরক্ষা কৌশলে বড় পরিবর্তন
জেনারেল মুসাভি জানান, ইরান যখন দেশীয় প্রযুক্তিতে তাদের অস্ত্রের মজুত বাড়াচ্ছে, তখন প্রতিপক্ষ দেশগুলো বিদেশের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় গোলাবারুদ সরবরাহে সংকটে পড়েছে। বিশেষ করে হরমোজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক আধিপত্য বজায় রাখতে ইরান তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটগুলোকে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও আধুনিক করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই সংক্ষিপ্ত বিরতিকে কেবল যুদ্ধের ক্লান্তি দূর করার মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং নিজেদের সামরিক দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেছে।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব
ইরানের এমন আগ্রাসী মনোভাবের ফলে পরবর্তী সময়ে যুদ্ধ শুরু হলে তা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সুসংগঠিত এবং যেকোনো হামলার কড়া জবাব দিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, ইসরায়েল ও আমেরিকার মতো দেশগুলোকে তাদের অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূর্ণ করতে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের জন্য কিছুটা সময়সাপেক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এক ঝলকে
- দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সুযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত বাড়িয়েছে ইরান।
- আইআরজিসি কমান্ডার জেনারেল মুসাভির দাবি, তাদের সক্ষমতা যুদ্ধপূর্ব সময়ের চেয়েও বৃদ্ধি পেয়েছে।
- প্রতিপক্ষ দেশগুলো বিদেশের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় গোলাবারুদ সরবরাহে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
- হরমোজ প্রণালী ও সংলগ্ন অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনার ঝুঁকি আরও ঘনীভূত হচ্ছে।