ট্যাক্সিতেই নিজের খুনের পরিকল্পনা শুনলেন ব্যাংক ম্যানেজার! নাটকীয় প্রেমের পরিণতিতে শ্রীঘরে স্ত্রী

ট্যাক্সিতেই নিজের খুনের পরিকল্পনা শুনলেন ব্যাংক ম্যানেজার! নাটকীয় প্রেমের পরিণতিতে শ্রীঘরে স্ত্রী

রাজস্থানের আলওয়ারে একটি চাঞ্চল্যকর অপরাধের ঘটনা সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানিয়েছে। একজন ব্যাংক ম্যানেজারের স্ত্রী তাঁর নিয়মিত যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত ট্যাক্সি চালকের প্রেমে পড়ে শেষ পর্যন্ত নিজ স্বামীকেই হত্যার ছক কষেন। দীর্ঘদিনের গোপন পরকীয়া এবং নৃশংস এই ষড়যন্ত্রের ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

পরকীয়া থেকে খুনের পরিকল্পনা

ঘটনার সূত্রপাত ব্যাংক ম্যানেজার কর্ণভ খত্রীর স্ত্রী অর্চনার সাথে ট্যাক্সি চালক ঋষভ শর্মার পরিচয়ের মাধ্যমে। কাজের সূত্রে কর্ণভ জয়পুরে থাকায় অর্চনার প্রায়ই আলওয়ার যাতায়াত করতে হতো, আর এই পথেই ঋষভের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। ফোনে দীর্ঘ আলাপচারিতা থেকে শুরু হওয়া এই অবৈধ সম্পর্ক এতটাই গভীর হয় যে, তাঁরা কর্ণভকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। তবে এই ষড়যন্ত্রের কথা কর্ণভ নিজেই শুনে ফেলেন যখন তিনি ঘটনাক্রমে ঋষভের ট্যাক্সিতেই যাত্রী হিসেবে ছিলেন। ঘুমানোর ভান করে তিনি নিজের স্ত্রীর সাথে চালকের সেই রোমহর্ষক কথোপকথন মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে নেন।

সংসার ত্যাগ ও আত্মসমর্পণ

এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর অর্চনার সাথে কর্ণভের সম্পর্কের চূড়ান্ত অবনতি ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, বিচ্ছেদের বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন অর্চনা এবং পরে নগদ টাকা ও গহনা নিয়ে প্রেমিকের সাথে পালিয়ে যান। নিজের সন্তানদের ফেলে রেখে ঘরছাড়া হলেও পুলিশের টানা অভিযানের মুখে তাঁরা বেশিদিন আত্মগোপন করে থাকতে পারেননি। ২০২৬ সালের মার্চে দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে চাপের মুখে পড়ে সম্প্রতি এই প্রেমিক যুগল আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছেন।

এক ঝলকে

  • যাতায়াতের পথে ট্যাক্সি চালকের প্রেমে পড়ে নিজ স্বামীকে হত্যার ছক কষেন অর্জনা অরোরা।
  • ট্যাক্সিতে ঘুমানোর ভান করে নিজের মৃত্যুর ষড়যন্ত্র নিজ কানে শুনে রেকর্ড করেন ব্যাংক ম্যানেজার স্বামী।
  • নগদ টাকা ও অলঙ্কার নিয়ে প্রেমিকের সাথে গৃহবধূ পালালেও শেষ রক্ষা হয়নি।
  • পুলিশের ক্রমাগত অভিযানের মুখে সম্প্রতি অভিযুক্ত স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিক আত্মসমর্পণ করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *