সংবিধান লঙ্ঘন করে ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ দিচ্ছে তৃণমূল, মেদিনীপুরে সরব প্রধানমন্ত্রী

মেদিনীপুরের নির্বাচনী জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে সংরক্ষণের অধিকার কেড়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি দাবি করেন, এ রাজ্যে মহিলাদের সংরক্ষণের বিরোধিতা করলেও একটি বিশেষ ভোটব্যাঙ্ককে খুশি করতে ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করছে শাসকদল। প্রধানমন্ত্রীর মতে, ওবিসি বা অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির জন্য বরাদ্দ সংরক্ষণের অধিকারে হস্তক্ষেপ করে তা মুসলিম সম্প্রদায়ের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি ও সাংবিধানিক সংঘাত
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে দেন যে, ধর্মের ভিত্তিতে এই ধরণের সংরক্ষণ প্রদান ভারতের সংবিধানের মূল কাঠামোর বিরোধী। তিনি উল্লেখ করেন, আদালতও অতীতে এই ধরণের পদক্ষেপকে ভুল বলে চিহ্নিত করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস কেবল রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে ওবিসিদের প্রাপ্য সুবিধা ছিনিয়ে নেওয়ার যে খেলায় মেতেছে, তার জন্য সাধারণ মানুষ তাদের যোগ্য জবাব দেবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
প্রভাব ও রাজনৈতিক সংকেত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই আক্রমণ বাংলার ওবিসি ভোটারদের মধ্যে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সংরক্ষণের মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে সরাসরি সংঘাতের পথে গিয়ে বিজেপি হিন্দুত্ববাদ ও সাংবিধানিক সুরক্ষা—উভয় দিককেই গুরুত্ব দিচ্ছে। লোকসভা নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য রাজ্যের মেরুকরণ এবং আদি ওবিসি ভোটব্যাঙ্কের সমীকরণকে বদলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- মেদিনীপুরের সভায় ওবিসি সংরক্ষণ ইস্যুতে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
- ওবিসিদের ন্যায্য সংরক্ষণ ছিনিয়ে নিয়ে ধর্মের ভিত্তিতে মুসলিমদের দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে।
- এই পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক ও আদালতের নির্দেশের পরিপন্থী বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
- ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য তৃণমূলকে বাংলার মানুষ শাস্তি দেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।