লক্ষণ শেঠের রাজত্ব শেষ করেছি, এবার মমতার পালা, ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে হুঙ্কার শুভেন্দুর!

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সবথেকে হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র হতে চলেছে ভবানীপুর। এবার নিজের খাসতালুকে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখোমুখি হয়েছেন বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রবিবারের জনসভা থেকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে শুভেন্দু জানান, নন্দীগ্রামের পর এবার ভবানীপুরেও তৃণমূল নেত্রীর পরাজয় নিশ্চিত করবেন তিনি। অতীতে মেদিনীপুরে লক্ষণ শেঠের দাপট খর্ব করার উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, এবার বাংলায় মমতার শাসনের অবসান হতে চলেছে।
পরিবারতন্ত্র ও দুর্নীতির অভিযোগে আক্রমণ
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তৃতার মূল লক্ষ্য ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ। তিনি দাবি করেন, রাজ্যের ক্রীড়া সংগঠন থেকে শুরু করে প্রশাসনিক স্তরে সবখানেই মুখ্যমন্ত্রীর আত্মীয়রা আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছেন। সেই সঙ্গে নিয়োগ কেলেঙ্কারি এবং একাধিক প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি তোপ দাগেন। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকার পুলিশকে দলীয় দাসে পরিণত করেছে এবং মানুষের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
নির্বাচনী সমীকরণ ও প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই লড়াই নিছক একটি আসনের নয়, বরং এটি সম্মানের লড়াই। গতবার নন্দীগ্রামে হারের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার ভবানীপুর থেকেই লড়ছেন, যেখানে তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি নির্বাচনের উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মুসলিম ভোটব্যাঙ্ককে নিজেদের দিকে টানতে তৃণমূল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন শুভেন্দু। এই লড়াইয়ের ফলাফল আগামী দিনে বাংলার ক্ষমতা কার হাতে থাকবে, তার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শুভেন্দু অধিকারী।
- লক্ষণ শেঠের পরাজয়ের উদাহরণ টেনে তৃণমূল নেত্রীকে বাংলা থেকে ক্ষমতাচ্যুত করার হুঁশিয়ারি।
- পরিবারবাদ, নিয়োগ কেলেঙ্কারি ও পুলিশের রাজনীতিকরণ নিয়ে রাজ্য সরকারকে কড়া আক্রমণ।
- ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান।