প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি বিরতিতে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর পথ আটকাল, তৃণমূলের তোপ

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের উত্তপ্ত আবহে ঝাড়গ্রামের রাজপথ এখন রাজনৈতিক বাদানুবাদের কেন্দ্রবিন্দু। রবিবার নির্বাচনী প্রচারের মাঝে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আচমকা রাস্তার ধারের এক দোকান থেকে ঝালমুড়ি খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর এই দীর্ঘায়িত ‘জলখাবার বিরতি’ এবং ছবি তোলার শখের কারণে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন ও তাঁর স্ত্রী কল্পনা সোরেনকে ঝাড়গ্রামে হেলিকপ্টার নামানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি।
রাজনৈতিক সংঘাত ও অভিযোগ
তৃণমূল কংগ্রেস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগ করেছে যে, প্রধানমন্ত্রী ঝাড়গ্রামে সময়ক্ষেপণ করায় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে সোরেন দম্পতির আকাশপথ আটকে দেওয়া হয়। এর ফলে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর কোনো কর্মসূচি না করেই রাঁচি ফিরে যেতে বাধ্য হন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, এটি আসলে প্রধানমন্ত্রীর ‘আদিবাসী বিরোধী’ মানসিকতার প্রতিফলন। যে আদিবাসী ভোটব্যাংক টানতে প্রধানমন্ত্রী ঝাড়গ্রামে এসেছিলেন, সেই জাতির একজন নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীকে আসাম্মান করে তিনি বিপরীত বার্তা দিয়েছেন বলে মনে করছে শাসক দল।
প্রভাব ও নির্বাচনী সমীকরণ
এই ঘটনার ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ঝাড়গ্রামের মতো আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে এই অভিযোগকে হাতিয়ার করে বিজেপি বিরোধী প্রচার জোরদার করছে তৃণমূল। আগামী ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার প্রাক্কালে এই ঘটনা ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্লেষণ। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়ার ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়লেও, তার পরবর্তী প্রশাসনিক জটিলতা এখন সংবাদ শিরোনামে।
এক ঝলকে
- প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি বিরতির কারণে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের হেলিকপ্টার অবতরণে বাধা।
- দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর কর্মসূচি বাতিল করে সোরেন দম্পতি রাঁচি ফিরে যেতে বাধ্য হন।
- তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর এই আচরণ আদিবাসী জনজাতি ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি অবমাননাকর।
- ঝাড়গ্রামের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক দানা বেঁধেছে।