মালদায় নারকীয় কাণ্ড: স্ত্রীকে কুপিয়ে পাথর দিয়ে মুখ থেঁতলে খুন করল পাষণ্ড স্বামী!

মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর থানার বেজপুরায় এক গৃহবধূকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে নিজ স্ত্রীর ওপর নারকীয় হামলা চালিয়েছে স্বামী শেখ ইস্তামুল। মৃত তরুণীর নাম মাজিমা খাতুন (২৫)। অভিযুক্ত স্বামী পেশায় একজন পরিযায়ী শ্রমিক। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসার পাশাপাশি তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার বীভৎসতা ও নৃশংসতা
সোমবার ভোররাতে মাজিমার ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় তাঁর স্বামী। পরিবারের অভিযোগ, প্রথমে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানো হয়। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করতে ভারী পাথর দিয়ে তাঁর মুখ থেঁতলে দেয় ঘাতক স্বামী। এখানেই শেষ নয়, বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে তরুণীর হাত ও পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে চাঁচল সুপার স্পেশালিটি ও পরে মালদহ মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় শিলিগুড়ি নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
পারিবারিক কলহ ও চরম পরিণতি
মৃতার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন বছর আগে সম্পর্কের খুড়তুতো দাদা ইস্তামুলের সঙ্গে মাজিমার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে পারিবারিক অশান্তি লেগে ছিল, যা এক সময় থানা-পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছিল। সম্প্রতি কাজের জায়গা থেকে ফিরে ইস্তামুল নিজের বাড়ির কাজ শুরু করলে মাজিমা বাপের বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। রবিবার মাঝরাতে শ্বশুরবাড়িতে চড়াও হয়েই তিনি এই নারকীয় কাণ্ড ঘটান।
হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্ত শেখ ইস্তামুল বর্তমানে পলাতক। পুলিশ তাঁর খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে। দাম্পত্য কলহ ও দীর্ঘদিনের বনিবনার অভাবই এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে স্ত্রীকে কুপিয়ে ও পাথর দিয়ে মুখ থেঁতলে খুনের অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে।
- মৃতার নাম মাজিমা খাতুন (২৫), অভিযুক্ত স্বামী শেখ ইস্তামুল পলাতক।
- পারিবারিক বিবাদ ও দীর্ঘদিনের তিক্ত সম্পর্কের জেরেই এই নৃশংস আক্রমণ বলে অনুমান।
- ঘটনার তদন্তে নেমেছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ, চলছে ঘাতক স্বামীর খোঁজ।