ভোটের মুখে অস্বস্তিতে বাংলা: উচ্চশিক্ষিত মহিলাদের ১৫ শতাংশই বেকার, পুরুষদের তুলনায় ছবিটা ভয়াবহ!

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক দলগুলির ইস্তেহারে মহিলাদের জন্য প্রতিশ্রুতির বন্যা বইলেও বাস্তব পরিসংখ্যান বেশ আশঙ্কাজনক। সরকারি তথ্য বলছে, রাজ্যে সাধারণ বেকারত্বের হারের তুলনায় উচ্চশিক্ষিত মহিলাদের কর্মহীনতার হার বহুগুণ বেশি। গত কয়েক বছরে জাতীয় গড়ের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গের বেকারত্বের পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, যা আসন্ন নির্বাচনে এক বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
পরিসংখ্যানের বয়ানে উদ্বেগের চিত্র
২০২৩ সালে পশ্চিমবঙ্গের বেকারত্বের হার ছিল ৮.১ শতাংশ, যা সেই সময়ের জাতীয় গড় ১০ শতাংশের তুলনায় বেশ ভালো অবস্থানে ছিল। তবে ২০২৫ সালে চিত্রটি সম্পূর্ণ বদলে গিয়ে রাজ্যে বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০.৬ শতাংশে। বিশেষ করে যুবতীদের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক; যেখানে ২০২২ সালে তরুণীদের বেকারত্বের হার ছিল ৫.৭ শতাংশ, ২০২৪ সালে তা লাফিয়ে বেড়ে হয়েছে ১১.৯ শতাংশ।
শিক্ষার হার ও কর্মসংস্থানের বৈষম্য
পরিসংখ্যানের সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য ধরা পড়েছে শিক্ষার স্তরের সঙ্গে কর্মসংস্থানের সম্পর্কে। দেখা যাচ্ছে, শিক্ষার মান যত বাড়ছে, মহিলাদের বেকারত্বের হারও তত পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ মহিলাদের মধ্যে বেকারত্বের হার বর্তমানে ১৫.৪ শতাংশ, যেখানে সমশিক্ষিত পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ২.৯ শতাংশ। অর্থাৎ, উচ্চশিক্ষিত মহিলারা চাকরির বাজারে পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি পিছিয়ে রয়েছেন।
কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে স্কিল ডেভেলপমেন্ট বা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের একগুচ্ছ প্রকল্প চালু থাকলেও তার সুফল উচ্চশিক্ষিত মহিলারা কতটা পাচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল আর্থিক ভাতা বা সাময়িক সহায়তা দিয়ে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান এবং শিক্ষিত শ্রমশক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের সামনে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।
এক ঝলকে
- ২০২৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের বেকারত্বের হার বেড়ে ১০.৬ শতাংশ হয়েছে, যা জাতীয় গড়কেও ছাড়িয়ে গেছে।
- উচ্চশিক্ষিত মহিলাদের মধ্যে বেকারত্ব প্রকট; স্নাতকোত্তর স্তরে এই হার ১৫.৪ শতাংশ।
- গত ৩ বছরে তরুণীদের বেকারত্বের হার ৫.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
- সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় মহিলারা বেশি পিছিয়ে।