৩০০০ সৈন্য ও ৫ যুদ্ধজাহাজের ডিল: রাশিয়ার সাথে ভারতের বন্ধুত্বের মাঝেই কি বড় ঘোষণা করবে ইউক্রেন?

ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘রিলস’ (RELOS) চুক্তির প্রেক্ষাপটে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। গত ১৮ এপ্রিল রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির নথি প্রকাশ করার পরপরই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ভারতের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন। রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের এই নতুন সামরিক সমঝোতায় ৩০০০ সৈন্য, ৫টি যুদ্ধজাহাজ এবং ১০টি বিমান মোতায়েনের অনুমতির বিষয়টি সামনে আসতেই কিয়েভ কূটনৈতিকভাবে নড়েচড়ে বসেছে।
কূটনৈতিক ভারসাম্য ও ইউক্রেনের উদ্বেগ
ইউক্রেনীয় নেতৃত্বের এই ত্বরিত পদক্ষেপকে বিশ্লেষকরা রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, ভারতের সঙ্গে তাদের নিরাপত্তা চুক্তির নথিপত্র প্রস্তুত হচ্ছে এবং এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা। মূলত রাশিয়ার ওপর প্রভাব খাটানোর সক্ষমতা ভারতের রয়েছে—এমন বিশ্বাস থেকেই ইউক্রেন নয়াদিল্লির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে চাইছে। বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক সহায়তা যখন অনিশ্চয়তার মুখে, তখন ভারতের মধ্যস্থতা ও সহযোগিতা ইউক্রেনের জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
শান্তি প্রক্রিয়া ও ভারতের অবস্থান
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা সচিব রুস্তম উমেরভ দিল্লিতে অজিত ডোভাল ও এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমেই কেবল এই যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান সম্ভব। চার বছরে পদার্পণ করা এই যুদ্ধে ইউক্রেন যখন অস্ত্রসংকট ও অবকাঠামোগত বিধ্বংসের মুখোমুখি, তখন ভারতের কৌশলগত অবস্থান দুই পক্ষের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মোদী সরকারের এই ভারসাম্যপূর্ণ নীতি একদিকে যেমন রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক বজায় রাখছে, অন্যদিকে ইউক্রেনকেও আলোচনার টেবিলে আস্থার জায়গা দিচ্ছে।
এক ঝলকে
- ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে ‘রিলস’ চুক্তির অধীনে সেনা ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের অনুমোদন মিলেছে।
- রাশিয়ার এই পদক্ষেপের পাল্টা জবাব হিসেবে জেলেনস্কি ভারতের সঙ্গে দ্রুত নিরাপত্তা চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন।
- ইউক্রেনের নিরাপত্তা সচিবের দিল্লি সফরে শান্তি ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে ভারত।
- পশ্চিমা সাহায্য কমতে থাকায় ভারতকেই রাশিয়ার আক্রমণ থামানোর অন্যতম চাবিকাঠি মনে করছে ইউক্রেন।