‘নতজানু হয়ে নয়, যুদ্ধের ময়দানেই মিলবে জবাব’ : ট্রাম্পের হুমকিতে উত্তপ্ত ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিরসনে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে প্রস্তাবিত আমেরিকা-ইরান বৈঠক এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার টেবিলে প্রতিনিধি পাঠানোর ঘোষণা দিলেও হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধ এবং কঠোর হুঁশিয়ারিতে ক্ষুব্ধ ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হুমকির মুখে কোনো আলোচনায় বসবে না তারা। ফলে যুদ্ধের দামামা থামানোর এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হওয়া নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে ঘোর সংশয়।
হুমকি বনাম যুদ্ধের নতুন কৌশল
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেছেন। তার মতে, আমেরিকা আলোচনার টেবিলকে ‘আত্মসমর্পণের মঞ্চে’ রূপান্তর করতে চাইছে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে ইরান যুদ্ধের ময়দানে ‘নতুন পাতা’ খোলার প্রস্তুতি রাখছে বলে তিনি সতর্ক করেন। অন্যদিকে, ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, আমেরিকার পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় বাধা।
অর্থনৈতিক চাপ ও অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী
ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধে আমেরিকার অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী এবং কেবল একটি ফলপ্রসূ চুক্তির মাধ্যমেই হরমুজ প্রণালীর অবরোধ প্রত্যাহার করা সম্ভব। এই অবরোধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং শেয়ার বাজারে ধস নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান আলোচনার আয়োজক হিসেবে ২০ হাজার নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করলেও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের ইসলামাবাদে না পৌঁছানো এবং বুধবার রাতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা এই অনিশ্চয়তাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
এক ঝলকে
- হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধের জেরে ইসলামাবাদে হতে যাওয়া আমেরিকা-ইরান বৈঠক অনিশ্চিত।
- হুমকি দিয়ে ইরানকে আলোচনায় বাধ্য করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তেহরান।
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি, কেবল চুক্তির মাধ্যমেই সমুদ্রপথের অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে।
- বুধবার রাতে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হতে চলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।