গোর্খা সমস্যার স্থায়ী সমাধান ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের বড় প্রতিশ্রুতি অমিত শাহের

গোর্খা সমস্যার স্থায়ী সমাধান ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের বড় প্রতিশ্রুতি অমিত শাহের

আগামী ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আগে শেষ মুহূর্তের প্রচারে উত্তপ্ত কার্শিয়াং। মঙ্গলবার সেখানে নির্বাচনী জনসভা থেকে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করার পাশাপাশি গোর্খা জনগোষ্ঠীর জন্য বড়সড় প্রতিশ্রুতির কথা শোনালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পাহাড়ি জনপদে দাঁড়িয়ে তিনি ঘোষণা করেন, গোর্খাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার এমন এক স্থায়ী সমাধান করা হবে যাতে ভবিষ্যতে তাঁদের আর কোনো আন্দোলনের পথে হাঁটতে না হয়। মূলত রাজনৈতিক অস্থিরতা কমিয়ে পাহাড়ের মানুষের আস্থা অর্জনই এই বার্তার নেপথ্যে কাজ করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ছয় মাসের মধ্যে সমাধান ও মামলা প্রত্যাহার

বিজেপি ক্ষমতায় এলে গোর্খা সমস্যার সমাধানে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, সরকার গঠনের মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই গোর্খাদের স্বার্থরক্ষা করে চূড়ান্ত সমাধান সূত্র বের করা হবে। এছাড়া বিগত বছরগুলোতে গোর্খা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের অসংখ্য মানুষের বিরুদ্ধে যে রাজনৈতিক মামলাগুলো করা হয়েছিল, সেগুলো আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। শাহের দাবি, বর্তমান সরকার দমন-পীড়নের মাধ্যমে আন্দোলন থামাতে চেয়েছিল, যা বিজেপি সরকার সংশোধন করবে।

ভোটাধিকার ও প্রশাসনিক সংস্কার

রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে অমিত শাহ অভিযোগ করেন, জেলা কালেক্টরদের ব্যবহার করে অনেক গোর্খার নাম ভোটার তালিকা থেকে সুকৌশলে বাদ দেওয়া হয়েছে। ক্ষমতায় এলে সেই সমস্ত গোর্খাদের ভোটদানের ক্ষমতা ও পরিচয় ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কৌশলী অবস্থান পাহাড়ের ভোটারদের আবেগ ছুঁয়ে যাওয়ার চেষ্টা বলেই মনে করা হচ্ছে। দুর্নীতি ও নারী নিরাপত্তার প্রশ্নে তৃণমূল সরকারকে বিঁধে তিনি পরিবর্তনের ডাক দেন।

রাজ্য রাজনীতির এই টানাপোড়েনের প্রভাব পাহাড়ে কতটা পড়বে, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। শাহের এই আশ্বাস যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে পাহাড়ের দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটতে পারে। তবে গোর্খাল্যান্ডের মতো স্পর্শকাতর দাবি এড়িয়ে গিয়ে তিনি যেভাবে ‘গোর্খা স্বার্থে সমাধানের’ কথা বলেছেন, তা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

এক ঝলকে

  • বিজেপি ক্ষমতায় এলে ৬ মাসের মধ্যে গোর্খা সমস্যার চূড়ান্ত সমাধানের প্রতিশ্রুতি।
  • ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে গোর্খাদের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের আশ্বাস।
  • ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া গোর্খাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার।
  • কার্শিয়াং থেকে রাজ্য সরকারকে দুর্নীতি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *