ভোটে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অবাক করা তথ্য, লিখতে ও পড়তে পারেন না ১৬ জন!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, প্রথম দফার তুলনায় দ্বিতীয় দফায় নিরক্ষর ও স্বল্পশিক্ষিত প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৪২টি আসনের মধ্যে ১৬ জন প্রার্থী নিজেদের সম্পূর্ণ নিরক্ষর হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যা রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতার চালচিত্র
স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় ৩৯ জন প্রার্থী নিজেদের কেবল অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন বলে দাবি করেছেন। সামগ্রিকভাবে ৪৫ শতাংশ প্রার্থীর পড়াশোনা পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ। তবে উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীর সংখ্যাও মন্দ নয়; প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ৫০ শতাংশ প্রার্থী স্নাতক বা তার বেশি ডিগ্রিধারী। এছাড়া ২০ জন প্রার্থীর কারিগরি বা ডিপ্লোমা শিক্ষা রয়েছে।
প্রভাব ও বিশ্লেষণ
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী হলফনামায় শিক্ষার তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও নির্বাচনে লড়ার ক্ষেত্রে কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার মাপকাঠি নেই। তবে প্রার্থীদের এই শিক্ষাগত প্রোফাইল ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে জনপ্রতিনিধিদের বড় একটি অংশের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকা আধুনিক প্রশাসনিক কাঠামোর জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
এক ঝলকে
- দ্বিতীয় দফায় ১৬ জন প্রার্থী নিরক্ষর এবং ৩৯ জন প্রার্থী কেবল সাধারণ অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন।
- প্রায় ৪৫ শতাংশ প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির মধ্যে।
- মোট প্রার্থীর প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ৭২১ জন স্নাতক বা তার ঊর্ধ্বের ডিগ্রিধারী।
- প্রথম দফার তুলনায় দ্বিতীয় দফায় স্বল্পশিক্ষিত প্রার্থীর হার বৃদ্ধি পেয়েছে।