বাংলার ২৫০ আসনে আরএসএসের ড্রইংরুম বৈঠক, ভোট বৈতরণী পার হতে নয়া রণকৌশল

বাংলার ২৫০ আসনে আরএসএসের ড্রইংরুম বৈঠক, ভোট বৈতরণী পার হতে নয়া রণকৌশল

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের প্রাক্কালে ময়দানে নেমেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)। তবে কোনো বিশাল জনসভা বা মিছিল নয়, বরং নীরবে জনমত গঠনে ‘ড্রইংরুম বৈঠক’ বা ঘরোয়া আলোচনাকেই হাতিয়ার করেছে এই সংগঠন। রাজ্যের প্রায় ২৫০টিরও বেশি বিধানসভা কেন্দ্রে আড়াই লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে এই ‘লোকমত পরিশোধন’ অভিযান চালানো হচ্ছে। দিল্লির নির্বাচনী মডেল অনুসরণ করে চার-পাঁচজন করে স্বেচ্ছাসেবকের ছোট ছোট দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।

নিশানায় নারী সুরক্ষা ও অনুপ্রবেশ ইস্যু

এই ঘরোয়া বৈঠকগুলোতে আরএসএস মূলত নারী সুরক্ষা এবং অনুপ্রবেশের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোকে সামনে আনছে। বিশেষ করে আর জি কর কাণ্ড এবং সংসদের নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থানের সমালোচনা করে লিফলেট বিলি করা হচ্ছে। পাশাপাশি, অনুপ্রবেশের ফলে জনবিন্যাসের পরিবর্তন ও হিন্দুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়টিকেও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরছে সংঘ। দুর্নীতি ইস্যুতে সরব হয়ে তারা সারদা কেলেঙ্কারি ও শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মতো ঘটনাগুলোকেও প্রচারের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।

তৃণমূলের মোকাবিলায় বিশেষ নজরদারি

ভোটের দিন বুথ দখল বা হিংসার আশঙ্কা রুখতে সংঘের স্বেচ্ছাসেবকরা তৃণমূল কর্মীদের গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন। সাধারণ মানুষের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় আশ্রম ও সংগঠনের সঙ্গেও নিবিড় সমন্বয় গড়ে তোলা হয়েছে। গত ১৫ বছরে পশ্চিমবঙ্গে আরএসএসের শাখার সংখ্যা ৯০০ থেকে বেড়ে ৪৩০০ হওয়ায় তাদের এই সাংগঠনিক শক্তি নির্বাচনী সমীকরণে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এক ঝলকে

  • কৌশল: সরাসরি প্রচার এড়িয়ে ২৫০টির বেশি কেন্দ্রে আড়াই লক্ষ মানুষের সঙ্গে ‘ড্রইংরুম বৈঠক’।
  • ইস্যু: নারী সুরক্ষা, আর জি কর কাণ্ড, অনুপ্রবেশ এবং শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিকে প্রধান অস্ত্র করা হয়েছে।
  • নজরদারি: বুথ দখল ও হিংসা রুখতে তৃণমূল কর্মীদের গতিবিধির ওপর স্বেচ্ছাসেবকদের বিশেষ নজর।
  • বিস্তার: গত ১৫ বছরে রাজ্যে শাখার সংখ্যা ৯০০ থেকে বেড়ে ৪৩০০-তে পৌঁছেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *