রহস্যময়ী বৃদ্ধার মৃত্যু: ভাঙা ঘরে থেকেও দান করে গেলেন ১৬ কোটি টাকা!

ইংল্যান্ডের কেন্টের হুইস্ট্যাবল এলাকার এক জরাজীর্ণ বাড়িতে ৯৮ বছর বয়স পর্যন্ত নিভৃতে বসবাস করতেন হিল্ডা লেভি। প্রতিবেশীদের চোখে তিনি ছিলেন কেবলই এক সহায়-সম্বলহীন বৃদ্ধা। অথচ তার মৃত্যুর পর উইল বা অসিয়তনামা পড়ার সময় বেরিয়ে এল এক অবিশ্বাস্য সত্য। জানা গেল, হিল্ডা লেভি আসলে প্রায় ১৬ কোটি টাকার (১.৪ মিলিয়ন পাউন্ড) মালিক ছিলেন। তার এই বিপুল সম্পদের খবর জানাজানি হতেই পুরো এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়।
সম্পদ নিয়ে মানবিক মহত্ত্ব
হিল্ডা তার সম্পত্তির বড় একটি অংশ মানবসেবায় দান করে গেছেন। অসিয়তনামা অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা তিনি তার বন্ধু এবং ক্যান্টারবারি হাসপাতালের কল্যাণে লিখে দিয়েছেন। এছাড়া লন্ডন ও হুইস্ট্যাবলের আরও কিছু চক্ষু হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে দিয়েছেন প্রায় ৩ কোটি টাকা। জরাজীর্ণ বাড়ি আর অগোছালো বাগানে থাকা এই নারী যে তলে তলে এত বড় দানবীর ছিলেন, তা স্থানীয়দের কল্পনার অতীত ছিল।
পেছনের ইতিহাস ও অর্জিত সম্পদ
তদন্তে জানা যায়, হিল্ডার এই বিত্তশালী হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ ও করুণ ইতিহাস। ১৯৩০-এর দশকে জার্মানি থেকে রিফিউজি হিসেবে ইংল্যান্ডে এসেছিলেন তিনি। তার পরিবার হলোকাস্টের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছিল। অনাথ এই মেয়েটিকে ইংল্যান্ডে অ্যালেন জেফরি নামে এক নারী দত্তক নেন। মূলত হিল্ডার এক চাচা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন এবং সেখানে ৩০০ কোটি টাকার বেশি সম্পত্তি গড়েছিলেন। সেই সম্পত্তির একটি বড় অংশ উত্তরাধিকার সূত্রে হিল্ডা লাভ করেন, যা তিনি নিজের জন্য খরচ না করে জমিয়ে রেখেছিলেন।
এক ঝলকে
- জার্মানি থেকে আসা রিফিউজি হিল্ডা লেভি ৯৮ বছর বয়সে মারা যান।
- মৃত্যুর পর জানা যায় তিনি প্রায় ১৬ কোটি টাকার মালিক ছিলেন।
- সম্পদের বড় একটি অংশ বিভিন্ন হাসপাতাল ও দাতব্য সংস্থায় দান করেছেন।
- পৈতৃক সূত্রে পাওয়া এই বিপুল অর্থ তিনি অতি সাধারণ জীবনযাপন করেও জমিয়ে রেখেছিলেন।