ভয়মুক্ত ভোটের লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ, লোকভবনে ২৪ ঘণ্টা খোলা হেল্পলাইন চালু করলেন রাজ্যপাল আর. এন. রবি

ভয়মুক্ত ভোটের লক্ষ্যে এবার বড় পদক্ষেপ নিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে মঙ্গলবার থেকে লোকভবনে ২৪x৭ নাগরিক হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। প্রথম দফার ভোটগ্রহণের মাত্র কয়েক দিন আগে রাজভবনের এই সক্রিয়তা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
সরাসরি অভিযোগ জানানোর সুযোগ
লোকভবনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ০৩৩-২২০০-১০২২ সহ মোট সাতটি বিশেষ নম্বর চালু করা হয়েছে। ভোটাররা যাতে কোনও ভয় বা প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা। রাজ্যপাল আর এন রবি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বাংলার শিক্ষা, শিল্প এবং সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে সরব হয়েছেন। এবার ভোটের ময়দানে সরাসরি নাগরিক সহায়তা কেন্দ্র চালু করে তিনি প্রশাসন ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর বাড়তি নজরদারি জারি করলেন।
রাজভবন ও নবান্ন সংঘাত
নির্বাচনের মুখে রাজ্যপালের মুখে ‘পরিবর্তন’ এবং ‘সংকল্প’ শব্দগুলো বারবার শোনা যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভোটের সময় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকে, তাই রাজভবন থেকে উস্কানিমূলক মন্তব্য অনভিপ্রেত। অন্যদিকে, রাজ্যপাল রাজ্যের পিছিয়ে পড়া মানুষের দুর্দশা এবং সিন্ডিকেট রাজ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই হেল্পলাইন চালু হওয়ায় ভোটাররা সরাসরি অভিযোগ জানানোর একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম পেলেন। বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যপালের এই পদক্ষেপ একদিকে সাধারণ মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে, অন্যদিকে শাসকদলের জন্য প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সব মিলিয়ে, প্রথম দফার ভোটের আগে রাজভবন ও নবান্নের এই সংঘাত বঙ্গ রাজনীতির পারদ আরও বাড়িয়ে দিল।
এক ঝলকে
রাজ্যপালের এই সক্রিয়তাকে ‘রাজনৈতিক এজেন্ডা’ ও ‘উস্কানিমূলক’ বলে সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে লোকভবনে ২৪x৭ নাগরিক হেল্পলাইন চালু করলেন রাজ্যপাল আর এন রবি।
ভোটাররা সরাসরি ০৩৩-২২০০-১০২২ থেকে ০৩৩-২২০০-১০২৯ পর্যন্ত নম্বরগুলোতে অভিযোগ জানাতে পারবেন।
রাজ্যের হারানো গৌরব ফেরাতে এবং তফশিলি সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিশ্চিতে সরাসরি পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন রাজ্যপাল।