উপহারের মোড়া মৃত্যুবাণ, প্রতিশোধের নেশায় এক উন্মাদের পার্সেল বোমা!

অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুরের একটি সাধারণ পরিবারে নেমে এসেছিল এক ভয়ংকর ট্র্যাজেডি। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে শশিরেখা নামে এক নববধু গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা প্রথমে এটিকে সাধারণ খাদ্যে বিষক্রিয়া মনে করলেও, স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ভেমুরি রামা তারকানাথ শশিরেখার নখে ‘মিস লাইন’ বা সাদা রেখা লক্ষ্য করেন। উন্নত পরীক্ষায় ধরা পড়ে যে শশিরেখার শরীরে স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ গুণ বেশি আর্সেনিক রয়েছে, যা ছিল একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক সূত্র।
প্রতিশোধের বিষাক্ত নীল নকশা
তদন্তে বেরিয়ে আসে এক রোমহর্ষক তথ্য। লন্ডনে কর্মরত ফার্মাসিস্ট অজিত কুমার মুপ্পারাপু তার প্রাক্তন স্ত্রী সিরিশার ওপর প্রতিশোধ নিতে পুরো পরিবারকে ধ্বংস করার ছক কষেছিলেন। পেশাগত জ্ঞানের অপব্যবহার করে তিনি লঙ্কার গুঁড়ো এবং লবণের সাথে মরণঘাতী আর্সেনিক মিশিয়ে একটি পার্সেল পাঠান। ডেলিভারি অ্যাপের মাধ্যমে পাঠানো সেই বিষাক্ত মসলা পরিবারের সবাই ব্যবহার করেন, যার ফলে ২০২৩ সালের ৫ই জুলাই শশিরেখার মাসি উমা মাহেশ্বরীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
আইনগত ব্যবস্থা ও বর্তমান পরিস্থিতি
এই সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের জালে অজিতের বোনসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী অজিত লন্ডনে আত্মগোপন করলেও রেড কর্নার নোটিশের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ব্রিটিশ পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তাকে ভারতে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর শশিরেখা ও তার পরিবার সুস্থ হয়ে উঠলেও আর্সেনিকের প্রভাবে কেউ কেউ এখনও স্নায়বিক জটিলতায় ভুগছেন। তবে সমস্ত বাধা পেরিয়ে শশিরেখা এখন লন্ডনে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন।
এক ঝলকে
- প্রাক্তন স্ত্রীর পরিবারের ওপর প্রতিশোধ নিতে খাবারের সাথে আর্সেনিক মিশিয়ে পার্সেল পাঠিয়েছিলেন অজিত কুমার।
- বিষাক্ত মসলা ব্যবহারের ফলে উমা মাহেশ্বরী নামে একজনের মৃত্যু হয় এবং শশিরেখাসহ বেশ কয়েকজন পঙ্গুত্বের শিকার হন।
- নখের সাদা দাগ দেখে চিকিৎসকরা আর্সেনিক বিষক্রিয়া শনাক্ত করলে এই ভয়াবহ রহস্য উন্মোচিত হয়।
- লন্ডন থেকে মূল অভিযুক্ত অজিতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে ভারতে প্রত্যর্পণের আইনি প্রক্রিয়া চলছে।